আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি ঐক্যের শরিক হিসেবে ৩০টি আসন পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই সমঝোতার ভিত্তিতে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ২৭টি আসনে তাদের চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে দলটি। বাকি তিনটি আসনে শিগগিরই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রবিবার এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রার্থীদের নাম ও ছবি সংবলিত পোস্টার প্রকাশ করা হয়। দলটির প্রার্থীরা ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফেসবুক পোস্টে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট চেয়ে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছে দলটি।
প্রার্থী ও আসন বিন্যাস
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা-১১ আসনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, রংপুর-৪ আসনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়-১ আসনে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা-৮ আসনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নোয়াখালী-৬ আসনে সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নির্বাচন করছেন।
এছাড়া দিনাজপুর-৫ আসনে মো. আবদুল আহাদ, নোয়াখালী-২ আসনে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, ঢাকা-১৯ আসনে দিলশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিক মুজাহিদ, ময়মনসিংহ-১১ আসনে জাহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৩ আসনে সাইফুল্লাহ হায়দার, ঢাকা-৯ আসনে জাবেদ রাসিন, গাজীপুর-২ আসনে আলী নাছের খান, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে মাজেদুল ইসলাম, পিরোজপুর-৩ আসনে শামীম হামিদী এবং নাটোর-৩ আসনে এস এম জার্জিস কাদির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে লড়বেন।
ঢাকা-১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ-৬ এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল-আমিন, পার্বত্য বান্দরবান আসনে এস এম সুজা উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা আশরাফ মাহদী, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।
আসন সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা
এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে ঐক্যের শরিক হিসেবে তারা ৩০টি আসন পেলেও দলটির ৪৭ জন নেতা স্বতন্ত্র বা দলীয়ভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনি সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আসন সংখ্যা আরও বাড়াতে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এনসিপি। আলোচনা সফল হলে ২৭ জানুয়ারির আগে আরও কয়েকটি আসন তাদের অনুকূলে আসতে পারে বলে দলটির নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট পরবর্তী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই নতুন রাজনৈতিক দলটি প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।