যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সমাজকর্মী চার্লি কার্কের সন্দেহভাজন হত্যাকারীর ছবি ও ভিডিও বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এছাড়া, তারা একটি রাইফেল খুঁজে পেয়েছেন যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তির ঝাপসা একটি ছবি প্রকাশ করেছে এফবিআই। ছবিতে থাকা ব্যক্তির পরনে ছিল কালো জামা, কালো সানগ্লাস ও গাঢ় রঙের টুপি। তার পোশাকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ওপরে উড়ন্ত একটি ঈগলের প্রতীক ছিল। হত্যাকারীর গ্রেফতারে তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য এক লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এফবিআই।
সন্দেহভাজন হত্যাকারীর পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে তার রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে।গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবিরের হয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালিয়েছিলেন কার্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে তরুণদের ভোট টানার দিকে তার যথেষ্ট অবদান ছিল। তবে আততায়ীর গুলিতে প্রাণ খোয়ানো কার্ক নিজেই ছিলেন প্রচণ্ডভাবে মার্কিন বন্দুক নীতির সমর্থক। এমনকি মারা যাওয়ার আগেও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বন্দুক সহিংসতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন তিনি।
ইউটাহ গভর্নর স্পেন্সার কক্স জনগণের সহায়তা চেয়ে বলেন, এ মুহূর্তে জনসাধারণের সহায়তা ছাড়া আমরা এগোতে পারছি না। তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে সাত হাজারের বেশি তথ্য পেয়েছেন এবং দুই শতাধিক সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।
ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার সেখানে গিয়েছিলেন ৩১ বছর বয়সী কার্ক। সেখানেই তাকে দূর থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং ইউটাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল হত্যাকারী। যে ভবনের ছাদ থেকে গুলিটি ছোঁড়া হয়, তার সিঁড়ি বেয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপরে ওঠার ভিডিও সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে।
ইউটাহ অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ আরও স্পষ্ট একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে ওই তরুণের ব্যাকপ্যাক ও কনভার্স জুতাও পরিষ্কার দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ছাদ থেকে নেমে যায়। সেখানকার একটি ভবনে হাতের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেছে। পরে তাকে রাস্তা পার হয়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন জঙ্গলে প্রবেশ করতে দেখা যায়, যেখানে পুলিশ একটি ‘হাই-পাওয়ার্ড, বোল্ট-অ্যাকশন’ রাইফেল উদ্ধার করে।
কার্কের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে ‘জঘন্য হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তদন্তকারীদের তরফ থেকে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করা না হলেও এ বিষয়ে কিছু ধারণা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তদন্তকারীরা যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।