বুধবার ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬

সচিবালয়ে ঢুকে ভাঙচুর-হত্যাচেষ্টায় ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা।

ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তা এবার এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২২ জুলাই, মঙ্গলবার, মাইলস্টোন স্কুলের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ নামে একটি কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ কিছু দাবি তুলে ধরে প্রথমে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং পরে তারা সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

সচিবালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে সেদিন সবগুলো গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সচিবালয়ে প্রবেশ না করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের মূল ফটকের সামনে পৌঁছে যায় এবং সেখানে সংঘর্ষ শুরু হয়। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিলে আন্দোলনকারীরা লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল নিয়ে পুলিশ, সেনা ও আনসার সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে একাধিক সদস্য আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর, বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর, ওই রাতেই বাংলাদেশ সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিদর্শক গোলাম মুক্তি মাহমুদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশত জন অজ্ঞাতপরিচয় শিক্ষার্থী ও স্বার্থান্বেষী দুষ্কৃতকারীদের আসামি করা হয়। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালত এজাহার গ্রহণ করেন এবং মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে এক ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের আবেগ ও নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশের দাবি, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিরাপত্তা ও আইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্ন।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য দাবি বিবেচনায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি আইনের চোখে কোনো সহিংসতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসকে অবহেলা করা উচিত নয়। তবে এই দুই অবস্থার মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে সত্যিকারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাটাই হবে রাষ্ট্রের বড় চ্যালেঞ্জ।

Translate