ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ঘটনাকে ‘নিখাঁদ আগ্রাসন’ ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে ইরান।
রোববার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি এ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে,‘যুক্তরাষ্ট্রের এই বর্বর ও বেআইনি আগ্রাসনের ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এই ঘটনাকে কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানিয়ে আমরা জাতিসংঘ চার্টার অনুযায়ী অপরাধীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং অবিলম্বে একটি জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২১ জুন স্থানীয় সময় ভোরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের ফোর্ডো, নাতানজ ও এসফাহানে তিনটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় পরিকল্পিত ও উসকানিমূলক হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই ট্রুথ সোশ্যালে এ এবং হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
এই হামলাকে একতরফা আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, এটি জাতিসংঘ সনদের ২ অনুচ্ছেদের ৪ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন—যেখানে বলা হয়েছে, কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরাইল একটি অঘোষিত পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, যার কাছে অসুরক্ষিত পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং অতীতে বেসামরিক পরমাণু স্থাপনায় হামলার সুস্পষ্ট ইতিহাস রয়েছে।
ইরান বলেছে, এই আগ্রাসন কেবল জাতিসংঘ সনদ নয়, বরং আইএইএ’র গাইডলাইন, নিরাপত্তা পরিষদের ৪৮৭ (১৯৮১) এবং ২২৩১ (২০১৫) নম্বর প্রস্তাব এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (এনপিটি) লঙ্ঘন করে।

