বৃষ্টির মৌসুমে রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় জনভোগান্তির অপর নাম জলাবদ্ধতা। বিগত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর এই জনবহুল এলাকার মানুষদের জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার মূল সড়কের পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর থেকে বের হওয়ার শাখা রাস্তাগুলো এ সময়েও হাঁটু সমান পানির নিচে ডুবে থাকে। এখানকার মানুষ জলাবদ্ধতা ঠেলেই প্রতিদিনের কার্যক্রম শুরু করেন।
Advertisement
জানা গেছে, এই এলাকার অনেকেই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে দুটি পোশাক নিয়ে বের হতে হয়। অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ এবং পয়ঃনিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় এই এলাকার মানুষ দীর্ঘকাল ধরেই জলাবদ্ধতা সমস্যায় ভুগছেন। বৃষ্টির পানি ও বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত পানিতেই এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা অতিজরুরি বলে মনে করেন এলাকার বাসিন্দারা। এলাকার পাশে তুরাগ নদীর অবস্থান হলেও শুধুমাত্র পরিকল্পনার অভাবে এ পানি সেখানে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, জলাবদ্ধতার কবল থেকে উত্তরখান ও দক্ষিণখানবাসীকে উদ্ধার করতে পুরাতন ড্রেনেজ ব্যবস্থাগুলো নতুনভাবে পরিষ্কার করে জলাবদ্ধতার কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখানের মোল্লারটেক রেলগেট থেকে গাওয়াইর পর্যন্ত ভোগান্তি দেখা যায়- জলাবদ্ধতা এড়াতে দক্ষিণখান এলাকায় সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। সড়কটি আরও উঁচু করা হচ্ছে।
দক্ষিণখানের হাজী ক্যাম্পের পাশের মার্কেটর ব্যবসায়ী জামান হোসেন চৌধুরী বলেন, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির জন্য আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। রাস্তা উঁচু করা হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা কমবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ তখন সড়কের তুলনায় আশপাশের ঘরবাড়ি অনেক নিচু হয়ে যাবে। যদি ড্রেন গভীর না হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবে পানি সরবে না। উলটো আমাদের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাবে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ৫ মিনিটের বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় পুরো রাস্তা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় এ পথে চলাচলকারীদের নোংরা পানি দিয়েই চলতে হয় বর্ষা মৌসুমে।
জলাবদ্ধ সড়কে রিকশায় দক্ষিণখান দিয়ে যাচ্ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী মুনিয়া বেগম। তিনি বলেন, অফিসের কাজে বাইরে বের হয়ে বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কবলে পড়লাম। যানবাহন যাওয়ার সময় জমে থাকা পানির ঢেউয়ের মতো গায়ে এসে পড়ছে। আমার জামা কাপড় নষ্ট হয়ে গেছে।
পথচারী মাকসুদ বলেন, অনেকেই এ ভোগান্তি এড়াতে আশকোনা হয়ে দক্ষিণখান থানা রোড ব্যবহার করছেন।
অপরদিকে, উত্তরখান এলাকায় দেখা যায় রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। পরিকল্পনা মাফিক সুয়ারেজ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাজার থেকে আটিপাড়া যাওয়ার মূল সড়কে হাটু পানি থাকে। এলাকাবাসী জানায়, এই সড়কে সুয়ারেজ ব্যবস্থা অনেক পুরাতন যা বর্তমানে অচল হয়ে পরেছে। তাই অল্প বৃষ্টিতে এই রাস্তায় হাঁটু পানি থাকে, আশেপাশে পানি নামার কোন ব্যবস্থা নাই। বৃষ্টি হলে সিটি কর্পোরেশনের লোকজন এখানে মটর লাগিয়ে পানি নিষ্কাশন করে। এই রাস্তায় দেখি প্রায় সময় সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা সুয়ারেজ লাইন পরিষ্কার করে।
এদিকে, মাজার থেকে দক্ষিণ খান বাজার অজন্ত রাস্তাটা বর্তমানে একেবারেই চলাচলের অনুপযুকে ধীরগতিতে রাস্তার কাজ হয় এই অবস্থা বলে জানায় এলাকাবাসী।
গার্মেন্টসকর্মী নাহিদা যুগান্তরকে বলেন, আগে এই রাস্তাটিতে কোমর সমান পানি থাকতো, এখন অনেকদিন যাবত এই রাস্তাটি মেরামত কাজ চলছে, দীর্ঘ প্রায় এক-দের বছর যাবত এই রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। এই এলাকার এই এলাকায় অফিস করা আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ওই এলাকায় ঘুরে দেখা যায় এ রাস্তাটির কাজ অনেক ধীরে চলছে যা এলাকাবাসীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোল্লাবাড়ি পানির পাম্প এলাকা, নগরেরবাড়ি, মাটির মসজিদ, চৈতি থেকে মাটির মসজিদ রাস্তা, আটিপাড়া থেকে তেয়ার মুখ যাওয়ার মূল সড়কে প্রায় তিন চারটি স্থানে পানি জমে থাকে। বৃষ্টি না থাকলেও সবসময় রাস্তায় হাঁটু পানি থাকে বলে জানায় এলাবাসী।
এই বিষয়ে অত্র এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত অঞ্চল ৭ ও ৮-এর পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকদের (সি আই) সাথে কথা বলে জানা যায় অত্র এলাকায় সুয়ারেজ অনলাইন না থাকায় এইসব এলাকায় পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হওয়ার পরপরই রাস্তা থেকে পানি সরানোর জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি।