বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬

২২০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার ‘মেলে না’, লাইনের গ্যাসের চুলাও ‘মিটিমিটি’

সরকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৯৪০ টাকা ঠিক করে দিলেও বাজারে ২২০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। লাইনের গ্যাসের চুলাও জ্বলে ‘মিটিমিটি’, ‘মন চাইলে এক ঘণ্টার জন্য’ গ্যাস আসে, জাতীয় সংসদে গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে এ অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংসদে বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনি এলাকায় নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি তোলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা হলেও জেলার মানুষই গ্যাসের সুবিধা পাচ্ছেন না।

রুমিন ফারহানা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যায় সারা বাংলাদেশে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস পায় না।

নিজ নির্বাচনি এলাকা সরাইলের আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে রুমিন বলেন, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না, চুলা ‘মিটিমিটি করে জ্বলে’। কখনও ‘মন চাইলে একঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে’, তারপর রাত পর্যন্ত আর গ্যাস থাকে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শীতকালে এ সমস্যা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য।

২০১৬ সালে বাসাবাড়িতে গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ হলেও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুমিনের ভাষায়, এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আর বৈধ গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না।

বিকল্প জ্বালানির খরচ ও সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

স্বতন্ত্র এই এমপি বলেন, ১৯৪০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার বলে বটে, কিন্ত ২২০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। আর বিদ্যুতের চুলার কথা যদি বলি, ঢাকা শহরে ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামে সেটা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়। গ্যাস ছাড়া চুলা জালানোর জ্বালানি নেই।

নিজের জেলায় গ্যাস নিশ্চিত করার দাবি তুলে এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেন, আমার দাবি থাকবে আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে, তারপর এটি অন্য এলাকায় যাবে।

জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা শিল্পকারখানায় যতখানি পারছি গ্যাস সরবরাহ করছি।

আগের সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনোরকম অনুসন্ধান করে নাই। আমরা ক্ষমতায় আসার পরে বাপেক্সকে শক্তিশালী করে অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছি। অনুসন্ধানে সফল হলে যেসব জায়গায় গ্যাস সংযোগ আছে সেখানে প্রেশার দিতে পারব।

জ্বালানিমন্ত্রীর অভিযোগ, বিগত সরকার জ্বালানি খাতে জবাবিদিহিতা এড়াতে দায়মুক্তির আইন করেছিল। এ খাতকে ‘আমদানিনির্ভর’ করে দিয়েছে। বিশাল অংকের বকেয়া রেখে গেছে।

দেশের পরিত্যক্ত গ্যাসক্ষেত্রে অবশিষ্ট গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি মনে করেন, সেগুলো তুলতে পারলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে কিছুটা সুবিধা হবে।

পরে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহারের আগে আবার কথা বলতে উঠে রুমিন ফারহানা আশুগঞ্জ সার কারখানার প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, গ্যাসের অভাবে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া গেলে এলাকার মানুষের কাছে ‘মুখ দেখাতে’ পারবেন।

এর জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্ষতি হলেও দেশের কৃষির কথা চিন্তা করে আগামী ১ মে হতে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Translate