সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যখন শোকে মুহ্যমান গোটা জাতি এমন পরিস্থিতিতে আজকের সূর্যোদয় নিয়ে এসেছে নতুন বারতা, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ। ২০২৫ সালের যত না পাওয়া, যত ভুল, হতাশা, দুঃখ, গ্লানি মুছে দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন যাত্রা। ২০২৬ সালের এই প্রথম সূর্যোদয়ে আছে অন্ধকার কেটে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার আশা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা।
নতুন বছর উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে তিনি বলেন, নববর্ষ মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার সূচনা। নতুনের এ আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে। সব গ্লানি ভুলে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য জোগায় নবোদ্যম ও অনুপ্রেরণা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন বছর আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে যাত্রা আমরা শুরু করেছি, নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা পূর্ণতা পাবে বলে আমরা আশা করছি। নতুন বছরে সব চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করে একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
তারেক রহমান তার বাণীতে বলেছেন, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষ্যে আমি কামনা করি দেশ-বিদেশের সবার অনাবিল আনন্দ, শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি। নতুন বছরে আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। আমরা এমন একটি জাতি নির্মাণের প্রত্যাশা করছি, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ স্বাধীন থাকবে। পৃথক বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুভেচ্ছা বার্তায় গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ও হতাশা পেছনে ফেলে নতুন বছর আমাদের জীবনে শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও কল্যাণ বয়ে আনুক-এটাই আমাদের কামনা। একটি বছর আমাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও ব্যর্থতার স্মৃতি বহন করে। নতুন বছর সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করে। এদিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনীতিসহ নানা কারণে ২০২৬ সালটি গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে দেশ আরও এগিয়ে যাবে-এমন প্রত্যাশা সবার। গত বছর যে আশা নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল তার অনেকখানি হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু তাতে কি, নতুন উদ্যম নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই। আজকের দিনে দেশবাসীর এ প্রত্যয়। ২০২৪-এ গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র শাসন ব্যবস্থার বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে দেশকে পুনরায় গঠনের এক মহান সুযোগ এসেছিল জাতির জন্য। মানুষের কথা বলার অধিকার ফিরে এসেছে।
ভোটের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ নতুন এক সুশাসনের অপেক্ষা করছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সে মোতাবেক ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে নিখুঁত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ সব মিলিয়ে এক সুদিনের অপেক্ষায় আছে। যেখানে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্নীতি কমবে, মানুষের সব অধিকার সংরক্ষিত হবে। সর্বোপরি মানুষের উন্নতি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।
দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও চান ভোটের অধিকার ফিরে আসুক। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। যার মধ্য দিয়ে অতীতের সব ভুলভ্রান্তি মুছে দিয়ে নতুনভাবে এগিয়ে চলবে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালটি দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। ব্যাংক খাতে ছিল নানা সংকট। দেশের মানুষের প্রত্যাশা ২০২৬ সাল অর্থনৈতিক খাতের সব সূচক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে। স্থায়ীভাবে ফিরে আসবে সব শ্রেণির মানুষের সচ্ছলতা। উন্নতি হবে জীবনমানের। মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় মাত্রায় নেমে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম হাতের নাগালে আসবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরেকটি বড় নিয়ামক বিনিয়োগ। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ। যার সঙ্গে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হওয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয় জড়িত। ২০২৬ সালে বিনিয়োগ বেড়ে নতুন নতুন আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে-এমন আশাবাদ দেশের মানুষের।
২০২৬ সালে প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের আয় বাড়ানো, আরও রেমিট্যান্স আনার বিষয়ে নানা উদ্যোগ প্রত্যাশা করে মানুষ। রাজনৈতিক হানাহানি, সংঘাত, লড়াই, সহিংসতা চান কেউই। সবার প্রত্যাশা-স্থিতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও সুদৃঢ় এবং ত্বরান্বিত হবে। সে সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, আবাসনসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের নানা জায়গায় দেশে আজও অরাজকতা বিরাজমান। দেশবাসী চান এসব অরাজকতা বন্ধ হয়ে প্রকৃতপক্ষেই দেশে শান্তি, স্বস্তি ফিরবে।