আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০২৪ সালের শেষ দিনে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই বছর গণপিটুনির ঘটনায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি, ৫৭ জন নিহত হন। অন্যান্য বিভাগে নিহতের সংখ্যা ছিলো: রাজশাহী বিভাগে ১৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭, খুলনা বিভাগে ১৪, বরিশাল বিভাগে ৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫, রংপুর বিভাগে ৫ এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন।
প্রতিবেদনে “মব জাস্টিস” বা গণপিটুনির প্রসঙ্গ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে।
২০২৪ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিছুটা কমলেও, এখনও এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে শিকার হয়েছেন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে:
- পুলিশ হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনে ৬ জন
- পুলিশের গুলিতে ৩ জন
- পুলিশ হেফাজতে ১ জন আত্মহত্যা করেছে
- র্যাবের হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনে ১ জন
- বিজিবির ক্রসফায়ারে ১ জন
- যৌথবাহিনীর হেফাজতে গ্রেফতার ও পরে শারীরিক নির্যাতনে ৭ জন
- নৌবাহিনীর নির্যাতনে ১ জন
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে ১ জনের মৃত্যু ঘটে।
প্রতিবেদনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানায়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমে এলেও এসব ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষ করে গণপিটুনির মতো ঘটনায় প্রমাণিত অপরাধীদের শাস্তি বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধা ও বিচারবিভাগীয় দুর্বলতা অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।