শুক্রবার ২২শে মে, ২০২৬

হামে শিশু মৃত্যুর তদন্ত ও বিচার দাবি জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের

জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রধান সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেছেন, দেশে হামের বিস্তার বর্তমানে মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ রোগে শিশু মৃত্যুর ঘটনাগুলোর তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গণফ্রন্ট নেতা তৈমুর খান অপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের জাতীয় পরিষদ সদস্য কাজী ইকবাল, জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক কাইয়ুম হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক উজ্জ্বল বালো এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা অঞ্চলের সভাপতি এহতেশাম ইমন।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক রফিক আহমেদ, মুক্তির মঞ্চের সংগঠক বর্ষা বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা সাইফুল ইসলাম, শ্যামকুল দাস, বিদ্যুৎ ও টিংকু।

সমাবেশে ফয়জুল হাকিম বলেন, গত জানুয়ারিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে এক শিশুর হাম শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এরপর মার্চ-এপ্রিল মাসে দেশে হামের প্রকোপ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তা মহামারি আকার ধারণ করে। তবে সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও অন্তত ১৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে। গত চার বছরে দেশে হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং গত বছর ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকাও পরিস্থিতি অবনতির কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফয়জুল অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন ও কর্মবিরতি, টিকা ক্রয়ে নীতিগত দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির কারণেও বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, করোনাকালে টিকা ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার যথাযথ তদন্ত ছাড়াই স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন গঠন ছিল ‘হাস্যকর’।

সমাবেশ থেকে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত ও বিচার, স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা, জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী শ্রমিকদের ছয় মাসের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি, ওষুধের দাম কমানো, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে টিকা উৎপাদন এবং কোভিড-১৯ সময়কার স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশসহ ১৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

Translate