শুক্রবার ২২শে মে, ২০২৬

গরু এসেছে ক্রেতা কই, পোস্তগোলা হাটে বেপারীদের অপেক্ষা

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে গরুর সরবরাহ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি পশু এসে পৌঁছাচ্ছে ঢাকার হাটে। রাজধানীর দক্ষিণ অংশের অন্যতম বড় পশুর হাট পোস্তগোলাতেও এখন কোরবানির প্রস্তুতির ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। তবে গরুর সারি বাড়লেও এখনও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা মিলছে না। তাই শেষ মুহূর্তের বেচাকেনার আশায় দিন গুনছেন বেপারীরা। গরুর ডাক, খড়ের গন্ধ আর দরদামের আলাপে ধীরে ধীরে জমে উঠছে রাজধানীর কোরবানির বাজার।

বেপারীরা বলছেন, ঢাকার মানুষ সাধারণত ঈদের এক-দুই দিন আগে গরু কেনেন। তাই এখন হাটে মানুষ এলেও বেশিরভাগই শুধু গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম যাচাই করছেন কিংবা ছবি তুলে রাখছেন।

শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিনে পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট এলাকার পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে গরু বেঁধে রেখেছেন বেপারীরা। কোথাও সামিয়ানা টানিয়ে, কোথাও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে রাখা হয়েছে পশু। কেউ গরুকে খড় খাওয়াচ্ছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ক্রেতাদের সঙ্গে দরদামে।

হাটজুড়ে এখনও ঈদের আগের শেষ সময়ের সেই উপচে পড়া ভিড় নেই। তবে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে বেচাবিক্রির পরিবেশ। ক্রেতাদের অনেকেই পরিবার নিয়ে হাটে এসে গরু দেখছেন, দাম যাচাই করছেন কিংবা মোবাইলে ছবি তুলে রাখছেন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ১১টি গরু নিয়ে এসেছেন মো. রানা বেপারী। তিনি বলেন, “এখনও আসল ক্রেতা নামেনি হাটে। যারা আসছেন তারা গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন। কেউ কেউ ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকার মানুষ সাধারণত আগে গরু কেনেন না। কারণ গরু রাখার জায়গা কম, পরিচর্যারও ঝামেলা আছে। তাই ঈদের দুই-এক দিন আগে কিনতে আসেন রাজধানীবাসী। তবে আশা করছি শেষ পর্যন্ত সব গরুই বিক্রি হবে।”

ফরিদপুর থেকে চারটি গরু নিয়ে আসা বেপারী মিজানুর হাওলাদারও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এখনও কাস্টমার কম। তবে আর দুই-এক দিনের মধ্যে বাজার জমে উঠবে। তখন বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।”

ভাঙা থেকে গরু নিয়ে আসা রেজাউল করিম জানান, প্রতিবছরই তিনি এই হাটে গরু বিক্রি করতে আসেন। এবার তার সঙ্গে ভাতিজা এবং পাশের বাড়ির এক চাচাও গরু এনেছেন। তিনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার গরুর আমদানি কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তাই আশা করছি এবার ভালো দাম পাওয়া যাবে।”

ফরিদপুরের সদরপুর থেকে দুটি বড় গরু নিয়ে এসেছেন দেলোয়ার হাওলাদার। প্রতিটি গরুর দাম চাচ্ছেন সাড়ে তিন লাখ টাকা। তিনি বলেন, “কয়েকজন ক্রেতা দরদাম করেছে। তিন লাখের নিচে দাম বলছে। তবে তিন লাখ টাকা করে পেলে বিক্রি করে দেবো।”

অন্যদিকে ক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, এখন গরুর দাম তুলনামূলক বেশি। রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকা থেকে ছোট ছেলেকে নিয়ে গরু দেখতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, “এখন গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দাম বেশি। তবে শেষ সময়ে হয়তো কিছুটা কমতে পারে। তাই এখন বাজার দেখে যাচ্ছি।”

হাট ঘুরে দেখা যায়, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই বেশি। অনেক ক্রেতা পরিবার ও বাজেট অনুযায়ী পশু খুঁজছেন। বড় গরুর প্রতি আগ্রহ থাকলেও উচ্চ দামের কারণে অনেকেই এখনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে, এবার দক্ষিণ সিটি এলাকায় ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট এলাকার পশুর হাট অন্যতম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের যত সময় ঘনিয়ে আসবে, ততই রাজধানীর বিভিন্ন হাটে পশুর সরবরাহ ও ক্রেতার উপস্থিতি বাড়বে।

হাট ইজারাদারদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আরও গরু আসবে। তখন পুরোপুরি জমে উঠবে হাট। বেপারীরাও আশায় আছেন, শেষ সময়ে ভালো দামে পশু বিক্রি করতে পারবেন।

পোস্তগোলা পশুর হাটে এখনও পুরোপুরি কেনাবেচার ব্যস্ততা শুরু না হলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রস্তুতির আমেজ স্পষ্ট। গরুর ডাক, খড়ের গন্ধ আর দরদামের কথোপকথনে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাজধানীর এই ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট।

Translate