ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর নৌঅবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে নতুন এক ফ্রন্ট উন্মোচন করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের বাইরেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) এই ঘোষণা দেয় হুথি বিদ্রোহীরা। এর ফলে পারস্য উপসাগরের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে সৌদি আরবের বেশিরভাগ তেল রফতানি আটকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ অন্তত ৭ শতাংশ কমে যাবে, যা পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে তৈরি হওয়া ১০ শতাংশ ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধের জবাবে চোখের বদলে চোখ নীতিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে হুথিরা জানিয়েছে, যদিও এতে সৌদি আরবের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতে তেহরান ও ওয়াশিংটন কূটনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছিল এবং মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছিল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে কুয়েত, জর্ডান ও সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং সর্বশেষ হুথিদের এই বড় ঘোষণায় পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এরই মধ্যে ওমান উপকূলে একটি জাহাজে হামলা এবং একটি নোনা পানি শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওদিকে বাব এল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রমের সময় দুটি তেল ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের দাবি করেছে আইআরজিসি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক জলপথ সুরক্ষায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান সরকার উভয় পক্ষই জানিয়েছে যে তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকে ইরান ও লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স