বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দ্রুত হওয়া উচিত। তার মতে, নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে “শ্বেতপত্র এবং অতঃপর: অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সংস্কার ও জাতীয় বাজেট” শীর্ষক সিম্পোজিয়ামের শেষ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি-২০২৪।
নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণা———-
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেষ্টা করবে যাতে ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন। তিনি স্বীকার করেন, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করা হবে। সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংস্কারের পরিকল্পনা———-
মির্জা ফখরুল জানান, বিএনপির লক্ষ্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার। দলটি আগে থেকেই ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
•পরপর দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাবে না।
•সংসদ দুইকক্ষবিশিষ্ট হবে।
•নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
•জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো গত ১৫ বছরে ধ্বংস হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনের গুরুত্ব———-
বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৬ মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। তাই নির্বাচনের তাড়াতাড়ি ঘোষণা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে।”
আওয়ামী লীগের ভূমিকা ও জাতীয় সরকারের প্রস্তাব——-
আওয়ামী লীগের আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, “এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণ নেবে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত দেব না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর একটি জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।
এই সিম্পোজিয়ামে দর্শকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল জানান, “আমরা সংস্কারের বিষয়ে দুই বছর আগে থেকেই কথা বলছি। আমাদের ৩১ দফা শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য।”