চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি আশীর্বাদ, মন্তব্য করেছেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক এম এ মালেক। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের মানুষের দান–অনুদানে গড়ে ওঠা এই হাসপাতালটি বৃহত্তর চট্টগ্রামের ক্যান্সার রোগীদের জন্য ভরসার জায়গা হয়ে উঠছে। কিছু বছর আগে, চট্টগ্রামে ক্যান্সারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব ছিল না, তবে এখন স্বল্প খরচে এই সেন্টারে ক্যান্সারের রেডিওথেরাপি সহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
রোববার (১০ মার্চ) লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মেট্রোপলিটনের পক্ষ থেকে ক্যান্সার হাসপাতালের দুস্থ রোগীদের সহায়তায় গঠিত জাকাত ফান্ডে অর্থ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এম এ মালেক বলেন, ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সকলের অবদান রয়েছে এবং আমরা কারো এক টাকা অনুদানকেও ছোট করে দেখিনি। সবার সহযোগিতায় আজ এই হাসপাতাল পূর্ণতা পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে একটি মেশিন দিয়ে চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্বিতীয় ক্যান্সার মেশিন ক্রয়ের জন্য অন্তত ৫০ কোটি টাকা দরকার এবং এই টাকাও চট্টগ্রামের মানুষের দান–অনুদানে সংগৃহীত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মেট্রোপলিটনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের সকল বিত্তবান মানুষ যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসে, তাহলে দ্বিতীয় মেশিন স্থাপন আটকে থাকবে না।
এছাড়া, হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লায়ন্স জেলা গভর্নর লায়ন কোহিনুর কামাল, প্রথম ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ অপু এবং অন্যান্য লায়ন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে লায়ন্স ক্লাব চিটাগাং মেট্রোপলিটনের পক্ষ থেকে জাকাত ফান্ডে ২ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
লায়ন কোহিনুর কামাল বলেন, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মেট্রোপলিটন সেবার জগতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, লায়নিজম কেবল একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি একটি মানবিক আদর্শ, যা সেবার মাধ্যমে বিশ্বকে বদলে দেওয়ার প্রত্যয় বহন করে।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।