ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার তেলে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে, ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল তার। এবার নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ ৩০ দিনের জন্য বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আরও ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল কেনার অনুমতি দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মেয়াদ বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু, নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে তারা।
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ একটি বিশেষ সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করেছিল। ওই ছাড়ের আওতায় ১৭ এপ্রিল থেকে জাহাজে লোড করা রুশ তেল সরবরাহের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা এবং তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে এই সুযোগ দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, “পূর্বের নিষেধাজ্ঞা ছাড় শনিবার শেষ হয়ে যাওয়ার পর ট্রেজারি বিভাগ নতুন করে ৩০ দিনের জন্য একটি নোটিশ জারি করছে।”
এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্যাঙ্কারগুলোতে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সাময়িকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, অর্থাৎ এগুলো ব্যবহার বা পরিবহন করা যাবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ না করেই।
বেসেন্ট বলেন, “এই সাধারণ লাইসেন্সটি তেলের বাজারকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।”
গত মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেছিলেন, রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সময় আর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। তবে, সোমবার (১৮ মে) তিনি যুক্তি দেন, এই পদক্ষেপ বিদ্যমান তেলের সরবরাহ পুনর্বণ্টনে সাহায্য করবে, যাতে জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলো রাশিয়ান তেলের জন্য চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সিনিয়র ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিয়ানে শাহহেন ও এলিজাবেথ ওয়ারেন এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি ‘অগ্রহণযোগ্য উপহার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে এই দুই সিনেটর বলেন, এই লাইসেন্সের মাধ্যমে ক্রেমলিন যে অর্থ আয় করে তা ব্যবহার হয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলতা দেশের ভেতরে গ্যাসোলিনের দাম কমাতে বা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করতে কোনও বাস্তব ভূমিকা রাখছে না।