মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫
আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়—মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিকসহ নাম না জানা অনেক শহিদ। তাদের আত্মত্যাগের মহিমায় এ বছর মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৩ বছর পূর্ণ হলো।
এদিনের কর্মসূচি শুরু হয় রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে। প্রথমেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর পরপরই বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়ে শহিদ মিনারে ও আজিমপুর কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে দিনটি ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব স্মরণে পালিত হয়ে আসছে।
এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য শোক, বেদনা ও গর্বের প্রতীক। একদিকে মাতৃভাষার জন্য আত্মাহুতি দেওয়া শহিদদের স্মরণ, অন্যদিকে ভাষার অধিকার রক্ষার চূড়ান্ত ত্যাগের মাহাত্ম্যে উদ্ভাসিত। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম লিখেছেন—”বরকত, সালাম আমাদের ভালোবাসে বলেই তারা জীবন দিয়ে গেছে, আমাদের জীবনকে অমর করে তুলেছে।”
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে আসা ছাত্র ও সাধারণ জনতার মিছিলে পাকিস্তানি পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিক শহিদ হন। এই আত্মদানই বাঙালির ভাষা আন্দোলনকে বিজয়ের পথে এগিয়ে দেয়।
২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এদিন সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষার বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন, ব্যানার ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হচ্ছে।
সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো একুশের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। শহিদ মিনারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা, সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মাতৃভাষার জন্য লড়াই—আমাদের অহংকার, আমাদের চেতনা!
২১ ফেব্রুয়ারি শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি সংগ্রামের প্রতীক, যা আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের প্রেরণা জোগায়