ভক্ত ও গণমাধ্যমের ব্যাপক চাপের মধ্যেও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছিলেন সাবেক তারকা স্ট্রাইকার রোমারিও। সেই আসরে তিনি বেবেতোর সঙ্গে জুটি গড়ে দলের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ব্রাজিলকে রেকর্ড চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন।
বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও রোমারিও এখনো ব্রাজিল জাতীয় দলের খেলা গভীরভাবে অনুসরণ করেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পর তিনি দলটির পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে সেলেসাওরা ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরছে।
নিজের কলামে তিনি উল্লেখ করেন, ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পেরেছে এবং প্রথম ম্যাচের তুলনায় উন্নতির স্পষ্ট লক্ষণ দেখা গেছে। তার মতে, বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করাই সফল দলের মূল চাবিকাঠি, কারণ টুর্নামেন্টে সাধারণত তারাই চ্যাম্পিয়ন হয় যারা ধাপে ধাপে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
নিজ দেশের খেলা দেখে তিনি বলেন, এ যেন আত্মা পরিশুদ্ধ করা খেলা। গতকাল ব্রাজিল দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা আসল রূপে ফিরেছে। আনন্দের সঙ্গে খেলেছে, আক্রমণে গেছে, দেখিয়েছে তাদের বুকে কেন পাঁচ তারকা। আমাদের এখনো পাঁচ ম্যাচ হাতে আছে এবং অনেক ধাপ ফেলতে হবে, আর উন্নতি করে যেতে হবে। হয়ত ভালো কিছুর জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।
রোমারিও বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। তার মতে, রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে ভিনি এখন দলের মূল আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং গোল করার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন।
গোলরক্ষক অ্যালিসনের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কয়েকটি সেভ করে দলকে নিরাপদ রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন রোমারিও। পাশাপাশি মিডফিল্ডে ব্রুনো গিমারায়েসের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রাইট ব্যাক পজিশনে দানিলোর উন্নত পারফরম্যান্স এবং তরুণ রায়ানের সম্ভাবনাও তাকে মুগ্ধ করেছে বলে জানান এই সাবেক ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে তিনি নেইমারকে আবার মাঠে দেখে খুশি হন এবং মনে করেন, ফিটনেস ফিরে এলে তিনি দলে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রশংসা করে রোমারিও বলেন, তার নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত হয়েছে এবং সঠিক সমন্বয় খুঁজে পেয়েছে। তার মতে, কোচ খেলোয়াড়দের ভালোভাবে বুঝতে পারেন এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।
সবশেষে তিনি বলেন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় ব্রাজিলের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো একটি ম্যাচ ছিল। যদিও সামনে এখনও কঠিন পথ বাকি, তবে এই পারফরম্যান্স দলকে ধীরে ধীরে আসল ছন্দে ফিরিয়ে নিচ্ছে।