দেশের নদ-নদী থেকে ২৮ হাজার ৩২৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সরকার দেশের সব নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) মোট ২৮ হাজার ৩২৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ একর তীরভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গাজীপুর-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নদীবন্দরগুলোর ফোরশোর জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিহ্নিত ফোরশোর এলাকায় সীমানা পিলার স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়াও নদীবন্দরের সীমানাভুক্ত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা শনাক্ত ও উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দখল ও দূষণরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে অবৈধ দখলদার ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে জেল-জরিমানা এবং ফোরশোর এলাকায় পাওয়া অবৈধ মালামাল জব্দ বা নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভরাট অপসারণের পর পুনরায় দখল ঠেকাতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উচ্ছেদকৃত স্থানে নান্দনিক ওয়াকওয়ে, ইকোপার্ক, আরসিসি জেটি ও স্টেপস নির্মাণ এবং বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা নদীর পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরের সহযোগিতায় সারা দেশে নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা হালনাগাদ করেছে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে নদ-নদীর মোট ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ দখলদার শনাক্ত হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, অবৈধ দখলদারদের তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং কমিশনের উদ্যোগে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।