পপকর্ন: আধুনিক স্ন্যাকসের আড়ালে শত বছরের ইতিহাস।

পকর্নকে আমরা আধুনিক যুগের জনপ্রিয় স্ন্যাকস হিসেবে মনে করলেও এর ইতিহাস আসলে হাজার হাজার বছরের পুরোনো। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা বলছে, মানুষের খাদ্যতালিকায় ভুট্টা থেকে তৈরি এই খাবারের পূর্বসূরি ছিল প্রায় শত  বছর আগেই।

২০১২ সালে পেরুর উত্তরাঞ্চলের প্যারেডোনেস ও হুয়াকা প্রিয়েতা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পাওয়া প্রাচীন ভুট্টার ছড়ি, শিষ ও কাণ্ড পরীক্ষা করে গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। এসব নিদর্শন থেকে ধারণা করা হয়, প্রায় অনেক বছর আগে সেখানকার মানুষ ভুট্টা আগুনে ভেজে বা উত্তপ্ত করে খেত। অর্থাৎ, পপকর্নের ইতিহাস আধুনিক সিনেমা হল কিংবা মাইক্রোওভেনের যুগের নয়—এর শিকড় প্রাচীন আমেরিকার সভ্যতাগুলোর খাদ্যসংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত।

তবে আজ আমরা যে পরিচিত পপকর্ন দেখি, তার বাণিজ্যিক ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির ইতিহাস অনেক পরের। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পপকর্নের উল্লেখ লিখিত নথিতে ক্রমশ দেখা যেতে শুরু করে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এটি ধীরে ধীরে রাস্তার খাবার ও বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত একটি জনপ্রিয় স্ন্যাকসে পরিণত হয়।

১৮৭৬ সালে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত সেন্টেনিয়াল এক্সপোজিশন—যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশাল আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী—পপকর্নের জনপ্রিয়তার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সেখানে পপকর্ন বিক্রেতাদের দেখা যেত এবং বিভিন্ন উপলক্ষে চুলার ওপর হাতে পপকর্ন ফোটানোর প্রচলনও ছিল।

পরবর্তীকালে সিনেমা হল, মেলা, সার্কাস ও বিভিন্ন জনসমাগমের সঙ্গে পপকর্নের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। বিশেষ করে সিনেমা হলের প্রবেশপথে ভেসে আসা গরম পপকর্নের গন্ধ একসময় চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতারই অংশ হয়ে ওঠে।

আজ মাখন, লবণ, ক্যারামেল কিংবা নানা স্বাদের পপকর্ন পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় স্ন্যাকস। কিন্তু এক মুঠো সাদা, ফোলা পপকর্ন হাতে নিলে মনে রাখা যায়—এর পেছনে রয়েছে শত বছরের মানবসভ্যতা, কৃষি ও খাদ্যসংস্কৃতির এক দীর্ঘ ইতিহাস। আধুনিক সিনেমা হলের এই পরিচিত খাবারটি তাই একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমানের এক বিস্ময়কর সংযোগ।

Translate