সোমবার ৬ই জুলাই, ২০২৬

নতুন দুই সরকারি স্কুলের পাঠদান শুরু আগামী বছরেই

৬০ বছর পর নতুন দুই সরকারি স্কুল পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম নগরী। আগামী বছর থেকেই পতেঙ্গা এলাকায় স্থাপিত সর্বাধুনিক অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধাসহ এই দুই স্কুলে পাঠদান শুরু হবে। এরই মধ্যে স্কুল ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। চলছে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ সৃষ্টির কাজও। প্রতিটি ১০ তলা ভবনের স্কুলে একসঙ্গে প্রায় ১২শ থেকে ১৪শ শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করতে পারবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাস্টার দা সূর্য সেন সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ হচ্ছে উত্তর পতেঙ্গার বিজয় নগর এলাকায়। প্রায় দুই একর ভূমির উপর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ হচ্ছে পূর্ব পতেঙ্গার স্টিল মিল এলাকায়। প্রায় এক একর ভূমির উপর নির্মাণাধীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি ৬০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। দুই ভবনের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। বাকি কাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক শাখা) এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী বলেন, এই দুই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ সৃষ্টি করার কাজ চলমান রয়েছে। আপাতত ডেপুটেশনে দুইজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি ডিসেম্বরের আগেই শিক্ষক নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

 

তিনি আরো বলেন, আপাতত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হবে এবং প্রতিটি শ্রেণিতে একটি করে সেকশন থাকবে। পরবর্তীতে শিক্ষক নিয়োগ হলে সেকশন বাড়ানো হবে।

 

জানতে চাইলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক সাইফুল আজম বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে আমাদের ভবন বুঝিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে আজও (শনিবার) কথা হয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শিক্ষক পদায়ন করা হবে বলে জানায় অধিদপ্তর।

 

মাস্টার দা সূর্য সেন সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মুজিবুর রহমান বলেন, গত মাসেই এই প্রতিষ্ঠানে আমাকে পদায়ন করা হয়েছে। স্কুলে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল আসছে, আমি নিজে এগুলো গ্রহণ করছি। তবে একজনও স্টাফ না থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

 

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলাম বলেন, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ফিনিশিংসহ ভিতরের কাজ চলছে। আসবাবপত্র ও লিফটও চলে এসেছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি।

 

জানা যায়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদন পায় নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প। ৪৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অধীনে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় শহরে দুটি করে, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে ও জয়পুরহাটে একটি করে এবং সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। এসব বিদ্যালয়ে থাকবে আধুনিক ভৌত অবকাঠামো সুবিধা ও যুগোপযোগী শিক্ষা সামগ্রী।

 

বিভাগীয় শহরের ৭টি বিদ্যালয়ে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং জেলা-উপজেলা শহরের ২টি হবে ৬ তলাবিশিষ্ট। পরবর্তীতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্কুল এন্ড কলেজে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকবে আইসিটি ল্যাব, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি, মাল্টিপারপাস হল রুম, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, অফিস কক্ষ, শিক্ষক কমনরুম, নামাজের কক্ষ, দর্শনার্থী কক্ষ, বিএনসিসি, গার্লস গাইড কক্ষ, প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষ, মিড ডে মিল কক্ষ ও সেমিনার কক্ষ।

 

২০১৮ সালে নেয়া প্রকল্পটির প্রথম দফায় মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। পরে তা আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে যা আবারো বৃদ্ধি করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত করা হয়।

 

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম নগরীতে তিনটি সরকারি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর দীর্ঘ ৫৯ বছরেও চট্টগ্রামে সরাসরি কোনো সরকারি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়নি। তবে স্বাধীনতার পর বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা হওয়া দু’টি বিদ্যালয়কে জাতীয়রকরণ করা হয়। এরমধ্যে ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে ১৯৮৪ সালে জাতীয়করণ করা হয়।

 

অন্যদিকে, ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজকে ২০১৭ সালে জাতীয়করণ করা হয়। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও চাওয়া ছিল নগরীতে সরকারি বিদ্যালয় স্থাপনের। দীর্ঘ ৫৯ বছর পর হলেও তা বাস্তবায়ন হওয়ায় খুশি বিভিন্ন মহল।

Translate