সোমবার ৬ই জুলাই, ২০২৬

ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড়ধস, একরাতে প্রাণ গেল ৯ জনের

ভারী বৃষ্টিপাতে একের পর এক পাহাড়ধসে কক্সবাজার শহর ও উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) রাত থেকে সোমবার (৬ জুলাই) ভোর পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের চারটি স্থানে এবং কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসের এসব ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক চারটি পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে এখনও পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে রাত দেড়টার দিকে উখিয়ার জামতলী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৫) ডি-৬ ব্লকে। পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে কামাল হোসেনের ঘরের ওপর পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে মারা যান কামাল হোসেন (৪৪), তার স্ত্রী হুমাইরা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরও দুজন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর দিবাগত রাত ২টার দিকে কুতুপালংয়ের ৭ নম্বর আশ্রয়শিবিরের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসে রশিদ উল্লাহর সাত বছর বয়সী ছেলে একরামের মৃত্যু হয়। দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর আশ্রয়শিবিরের সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন- উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং দুই ভাই রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ভোর পর্যন্ত অভিযান চালায়। ভারী বৃষ্টি ও কাদার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

এদিকে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পাহাড়ধসের সময় আলী আকবর ও তার পরিবারের আরও দুজন সদস্য মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া একই পরিবারের অন্য দুই সদস্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি আরও অন্তত দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

Translate