শনিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানের যাত্রীর শেষ মুহূর্তের ক্ষুদেবার্তা।

দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে অন্তত ১৭৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানে মোট ১৮১ জন আরোহী ছিলেন, এর মধ্যে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটার আগে, বিমানে থাকা এক যাত্রী তার শেষ মুহূর্তের কিছু ক্ষুদেবার্তা পাঠান। সেগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায়, জীবিতদের বাঁচার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল। ওই যাত্রী একটি বার্তায় জানান, “একটি পাখি বিমানের ডানায় আটকে গেছে, আমরা অবতরণ করতে পারছি না।” এরপর তার আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণ পাখির সংস্পর্শে আসা। একাধিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করার সময় এটি রানওয়ে বরাবর পিছলে গিয়ে, পরে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়। সিউল থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক রব ম্যাকব্রাইডের মতে, বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং পাখির আঘাতের ফলে এটি আরও জটিল হয়ে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “পাখির আঘাতের কারণে ত্রুটি দেখা দিতে পারে” তবে এখনো এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট চোই সাং-মোক উদ্ধার কার্যক্রমে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং সমস্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মীদের একত্রিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কম খরচের বিমান সংস্থা জেজু এয়ার আজকের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

Translate