কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বিশ্বরোডে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লেভেল ক্রসিংয়ে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় রেলওয়ের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া।
এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান। তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জানা গেছে, শনিবার মেহেদী ও হেলাল নামে দুজন গেটম্যান পদুয়ার বাজারে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, আহত আট জন ভর্তি রয়েছেন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাদের বেশির ভাগই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। গুরুতর আহত দুই জনকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সামান্য আহত ১৮ জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার অজয় ভৌমিক।
অপরদিকে, দুর্ঘটনার প্রায় ৫ ঘণ্টা পর আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল ১০টায় বাসটিকে আপলাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ঢাকা মেইল ট্রেনটি সচল করার জন্য কাজ শুরু করে উদ্ধারকারী ট্রেন।
ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেন লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল নামে একটি বাসে ধাক্কা দেয়। ট্রেনটির গতি বেশি থাকায় বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার সামনে ঠেলে নিয়ে যায়।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাড়ে সাত ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ চালু
দুর্ঘটনার পর প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেল যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর দুর্ঘটনার স্থান দিয়ে কয়েকটি ট্রেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের দিকে গেছে। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকাল সোয়া ৮টায় আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধারকাজ শেষে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, শনিবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এর পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
তবে সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে কুমিল্লা রেলস্টেশন থেকে টু ডাউন (চট্টগ্রাম মেইল) চট্টগ্রাম অভিমুখে ছেড়ে যায়। ৭টা ৩৫ মিনিটে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার অতিক্রম করে ট্রেনটি। চট্টগ্রামমুখী লাইন দিয়ে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এলে দুটি লাইনই বন্ধ হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধারকাজ শেষে দুদিকের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ায় দুদিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।