রুপালি পর্দা কাঁপানো একসময়ের সাড়া জাগানো এ হার্টথ্রব নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শারীরিকভাবে ভালো নেই। দীর্ঘ এক বছর ধরে ষাটটি কেমোথেরাপি দেওয়ার কারণে তার স্মৃতিশক্তি অনেকটা লোপ পেয়েছে। একেবারে কাছের মানুষ ও পরিবারের সদস্য ছাড়া দীর্ঘদিনের অনেক সহকর্মীকেও তিনি চিনতে পারছেন না।
লন্ডনের মাউন্ট ভারনন হাসপাতালে চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মাঝেই আত্মীয়স্বজনদের দেখা ও দেশপ্রেমের তাড়ায় গত ৩ আগস্ট দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর থেকে তিনি উত্তরার নিজ বাসাতেই আছেন। চিকিৎসার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯ আগস্ট জনপ্রিয় এ নায়কের সিটিস্ক্যান ও এমআরআই করা হবে। তাই আগামীকাল বুধবার (১২ আগস্ট) তিনি ফের লন্ডন যাচ্ছেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চনের ঘনিষ্ঠজন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক লিটন এরশাদ। তিনি বলেন, দেশের প্রতি পরম মমত্ববোধ থেকেই চিকিৎসককে অনুরোধ করে ১০ দিনের জন্য দেশে এসেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। একুশে পদকপ্রাপ্ত ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন লিটন এরশাদ।
গত বছরের ৯ এপ্রিল রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এমআরআই করার পর জনপ্রিয় এ অভিনেতার ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। এরপর একই বছরের ২৬ এপ্রিল উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে নেওয়া হয়। এরপর ৫ আগস্ট সেখানকার ওয়েলিংটন হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে লন্ডনের মাউন্ট ভারনন হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনুপ ভিনায়নের তত্ত্বাবধানেই তার চিকিৎসা চলছে।
১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের ঝলমলে জগতে ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিষেক ঘটে। এরপর ৩০০-এরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ছবিটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এ যাবৎকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা।
ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘বসুন্ধরা’, ‘ডুমুরের ফুল’, ‘সুন্দরী’, ‘শেষ উত্তর’, ‘কলমীলতা’, ‘মোহনা’, ‘অভিযান’, ‘তিন কন্যা’, ‘পরিণীতা’, ‘ভেজা চোখ’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘ন্যায় যুদ্ধ’, ‘গাড়ীয়াল ভাই’, ‘বেনাম বাদশা’, ‘মায়ের ইজ্জত’, ‘ত্যাগ’, ‘সিপাহি’, ‘স্বজন’, ‘মহান বন্ধু’, ‘সুখের ঘরে দুঃখের আগুন’, ‘বদলা নেব’ ইত্যাদি।
সেরা অভিনেতা ও সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি তিনি আজীবন সম্মাননা ক্যাটাগরিতেও পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৮ সালে তিনি সর্বোচ্চ দ্বিতীয় বেসরকারি সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর তিনি ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’ আন্দোলন শুরু করেন।
গত ৯ আগস্ট রাতে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দেশে আসার পর আজ একটু বেশি আরাম বোধ করছি। ঘুমটা খুব ভালো হয়েছে। অনেকেই আসছেন, দেখা করছেন, কথা বলছি, খুব ভালো লাগছে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে শুধু একটাই চাওয়া—আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন দ্রুত চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরতে পারি। আমার দেশে থাকতেই ভালো লাগে।