জেন জির পর এবার ‘জেন আলফা’: উন্নত স্কুলের দাবিতে কাঁপছে ভারত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের জেরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সদ্যই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। তরুণ প্রজন্ম ‘জেন জি’-র পরিচালিত সেই বড় সাফল্য পাওয়ার পর এবার তাদের দেখাদেখি রাজপথে নেমে এসেছে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম-‘জেন আলফা’। উন্নত মানের সড়ক, ভালো পাঠশালা ও সুপেয় পানির মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধার দাবিতে ভারতের একাধিক রাজ্যে প্রশাসনকে রাজপথে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে এই খুদে শিক্ষার্থীরা।

মূলত গত মে মাসে সুপ্রিম কোর্টে এক মামলার শুনানি চলাকালীন ভারতের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে আখ্যা দিলে তার প্রতিবাদে গত ১৭ মে ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ ঘটে ব্যঙ্গাত্মক পেজ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)। পরবর্তীতে বিষয়টি নিট-ইউজি প্রশ্ন ফাঁস ও অন্তত ২২ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার দিকে মোড় নিলে তারা আন্দোলনের জন্য রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থান নেয়। পদত্যাগের দাবিতে অনড় আন্দোলনের মুখে গত ২৫ জুলাই পদ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমে সিজেপির আন্দোলন শেষ হলেও তা পুরো ভারতে বিক্ষোভের নতুন এক অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে দিয়েছে। ঝাড়খণ্ডে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জিপিএসসি) ও স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমেছে। এই আন্দোলনকে মূল চালিকাশক্তি মেনে স্বাধীনতা দিবসে গ্রামাঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলোর মানোন্নয়নে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ‘স্কুল ঠিক করো’ শীর্ষক নতুন প্রচারণা চালু করেন।

সম্প্রতি শেষ হওয়া এক সপ্তাহে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জেন আলফা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সার্বিক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

উত্তর প্রদেশ: গত ১১ আগস্ট হামিরপুরের একদল খুদে শিক্ষার্থী পাকা সড়কের দাবিতে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করে। বন বিভাগ তাদের পূর্বের বিকল্প পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে সড়কটি কাদায় পরিণত হওয়ায় তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। এর আগে গত ২৮ জুলাই ফতেহপুরের কিশানপুরে সর্বোদয় ইন্টার কলেজের প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী সুপেয় পানি, ক্লাসরুমে সচল ফ্যান, অবকাঠামো মেরামত ও সঠিক মিড-ডে মিলের দাবিতে চার ঘণ্টার অবস্থান ধর্মঘট করে। পরে শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে চারটি করে ফ্যান দেওয়া, ওয়াটার কুলার বসানোসহ যাবতীয় দাবি বাস্তবায়নে লিখিত অঙ্গীকার দিতে বাধ্য হন।

রাজস্থান: শিক্ষক সংকট দূর করার দাবিতে বারমেরের শিক্ষার্থীরা সরকারি স্কুলের ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেয়। এছাড়া জালোরের মেগালওয়া গ্রামে এবং জয়পুরে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা প্রতীকী ভাষায় সরকারি স্কুলের জরাজীর্ণ অবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

বিহার: নিম্নমানের খাবার, ভাঙা চাপকল, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ও খেলাধুলার সরঞ্জামের অভাবের প্রতিবাদে গত ৩০ জুলাই গয়া জেলার সিমুয়ারা মিডল স্কুলের ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী টিকরী সাব-ডিভিশনাল অফিসে স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ করে। এসডিএম প্রবীণ কুন্দান পাঁচ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।

মধ্য প্রদেশ: বাস ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে এমন অভিযোগে সিরোঞ্জের ক্যানিয়া হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের বহু ছাত্রী রাস্তায় নেমে আধঘণ্টা ধরে বাস স্ট্যান্ডে স্লোগান ও বিক্ষোভ দেয়।

মহারাষ্ট্র: ধরাশিবের সোনারি গ্রামের এক জেলা পরিষদ স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিনের শিক্ষক শূন্যতা পূরণের দাবিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া নাগপুরের খেতাপুরে ৭ কিলোমিটার কাদাপথ পেরিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হওয়া শিক্ষার্থীরা বাস সার্ভিসের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে নাশিক জেলার শিক্ষার্থীরা প্লাস্টিকের বোতলকে ‘মাইক্রোফোন’ বানিয়ে নিজেরাই ভাঙাচোরা সড়কের ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি করে নজর কেড়েছে।

উত্তরাখণ্ড: দেরাদুনের শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (এনআইইপিভিডি) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ক্যাস্পাসে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক অনুদান এবং স্থায়ী পরিচালক নিয়োগের দাবিতে আগস্ট মাসে টানা কয়েক দিন আন্দোলন চালিয়েছে।

সূত্র: উইয়ন নিউজ

Translate