রবিবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামজুড়ে আগুনের ভয়াবহতা

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় রাউজান, ফটিকছড়ি, পটিয়া, চন্দনাইশ, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৭টি দোকান ও ২৭টি বাড়ি পুড়ে গেছে এবং রাউজানে এক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এতে প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ফটিকছড়ির শান্তিরহাট বাজারে ৮ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা ৩০টি দোকানকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে। এতে আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পটিয়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে ২২টি দরিদ্র জেলে পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই তাদের জীবনের জমানো অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়েছেন। পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

চন্দনাইশের দোহাজারী বাজারে চায়ের দোকানের চুলা থেকে আগুন লাগে, যা ৭টি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দোকানিরা দাবি করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

হাটহাজারী ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি রান্নাঘর থেকে আগুন লেগে ৪টি পরিবারের ঘর পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

বোয়ালখালীতে বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুন লাগে, যার ফলে একটি বসতঘর পুড়ে যায় এবং ৬টি ছাগল মারা যায়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়, তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

এ সমস্ত অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রদান করছে।

Translate