নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় করা মামলার আসামি মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেফতার এড়াতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিল। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব-১৪–এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। মামলার পর ওই শিক্ষক গাজীপুর, টঙ্গী ও পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
বিষয়টি নিয়ে বুধবার (৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র্যাব-১৪ প্রধান কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
ব্রিফিংয়ে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। মোবাইল ফোনও ব্যবহার করছিল না। গোয়েন্দা নজরদারিতে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর গৌরীপুরের সোনামপুরে এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তেমন কোনও তথ্য দেয়নি। তাকে বুধবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
শিশুটির আত্মীয়স্বজন, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করতো। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন।
এদিকে শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে ওই শিক্ষার্থীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক বিভিন্ন হুমকি পাচ্ছেন এবং তাকে নানাভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নজরে আনা হলে র্যাব অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা চিকিৎসক নানাভাবে হুমকি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমারা অবগত আছি। তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছি। আমরা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এ ছাড়া একটি ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে যে তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়েছে, সেটি সঠিক নয়।’