ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর দেশটির শাসনভার এখন নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের হাতে।
ভেনেজুয়েলার সংবিধানের ২৩৩ ও ২৩৪ ধারা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্টই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত শনিবার বিকেলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৫৬ বছর বয়সী ডেলসি, যিনি একই সঙ্গে অর্থ ও তেলমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি মাদুরো দম্পতির অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন এবং মার্কিন অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে নিন্দা জানান।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘চাভিজমো’ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ডেলসি রদ্রিগেজকে নিকোলাস মাদুরোর সবচেয়ে আস্থভাজন ও কট্টরপন্থী কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারাকাসে জন্মগ্রহণকারী এই আইনজীবী এর আগে তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেলসি কোনো নমনীয় বা উদারপন্থী বিকল্প নন, বরং তিনি ভেনেজুয়েলা সরকারের শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন, যার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ পুরো সরকারি ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ডেলসি ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু করতে ইচ্ছুক বলে মনে হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি অনেক বিশ্লেষককে অবাক করেছে, কারণ ডেলসি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার যেকোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি মাদুরোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট। ফলে ডেলসি রদ্রিগেজ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নমনীয় হবেন নাকি কট্টর অবস্থান বজায় রাখবেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।