ইরানে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিছুটা কমেছে, এবং বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ওভাল অফিসের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমন অভিযানে হত্যাকাণ্ড কমে এসেছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ব্যাপকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই।
ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ ও আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মতে, এই সময় সামরিক হস্তক্ষেপ উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এতে বিক্ষোভ দমে যেতে পারে আবার অংশগ্রহণকারীদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বাড়তেও পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ইরানের সরকার পতন ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ৯ কোটি মানুষের দেশে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। এতে কুর্দি ও বালুচ সংখ্যালঘু বিদ্রোহ জোরদার হওয়ার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রয়টার্সের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভ সরকারকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে ঠিকই তবে শাসনব্যবস্থা এখনই পতনের মুখে নেই।
ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের বিশ্লেষক বেহনাম বেন তালেবলু বলেছেন, ইরানে অস্থির জাতিগত সংখ্যালঘু, অঘোষিত পারমাণবিক উপাদান, ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এবং দীর্ঘদিনের শরণার্থী সংকট রয়েছে। শাসন পরিবর্তন হলে এসব ঝুঁকি আরও তীব্র ও বিপজ্জনক আকার ধারণ করবে।
উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের শেষ দিকে মুদ্রা পতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়ে দ্রুত রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২,৪০৩ জন নিহত ও ১৮,৪৩৪ জন গ্রেফতার হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে অভূতপূর্ব মাত্রার অবৈধ হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।