ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সোমবার দিবাগত রাতের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই ঘোষণা দেন। একই হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজ-এর প্রধান জেনারেল গোলাম রেজা সোলাইমানিও নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এখনও এই দুই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি। তবে লারিজানির কার্যালয় থেকে শিগগিরই একটি বার্তা প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আলী লারিজানি ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তিনি দেশটির পার্লামেন্টের সাবেক স্পিকার এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা ছিলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রয়াত খামেনি। এছাড়া তিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া লারিজানির ওপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার কারণে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। মার্কিন ট্রেজারি সে সময় বলেছিল, লারিজানি ছিলেন প্রথম সারির ইরানি নেতাদের একজন, যিনি জনগণের ন্যায়সংগত দাবির বিপরীতে সহিংসতার ডাক দিয়েছিলেন।
লারিজানি ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন। প্রাথমিকভাবে কিছুটা নমনীয় ভাবমূর্তি থাকলেও, দেশের ভেতরে ও বাইরে চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেন। উল্লেখ্য, তার ভাই সাদেক লারিজানি ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লারিজানিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেননি প্রয়াত খামেনি। সে সময় তিনি লিখেছিলেন, আমি ঈশ্বর এবং জাতির প্রতি আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং আমি সন্তুষ্ট।
সূত্র: এপি