রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসানের পর ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিভিন্ন বিকল্প খসড়া তৈরি শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সামরিক পরিকল্পনাকারীরা। মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতির পরই এই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার এক শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, পেন্টাগন ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে বিবেচনা করছে। যুদ্ধের পর অস্ত্র সহায়তার বাইরে ওয়াশিংটন কী ধরনের সমর্থন দিতে পারে তা খুঁজে বের করতে কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় সেনাদের ইউক্রেনে পাঠানো হলেও তাদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে, এমন একটি বিকল্প আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব সেনা ন্যাটোর অধীনে নয়, নিজ নিজ দেশের পতাকাতেই কাজ করবে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সমন্বয়ের ভূমিকায় থাকতে পারে। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ন্যাটো দেশের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে বাতিল করেছে।
ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করলেও মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইউক্রেনের জন্য আকাশপথে সহায়তার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। তার ভাষায়, ইউরোপীয়রা মাটিতে সেনা পাঠাতে ইচ্ছুক, আর আমরা আকাশপথে সহায়তা দিতে পারি। আমাদের সামর্থ্য অন্য কারও নেই।
মার্কিন সহায়তার আওতায় ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া অথবা মার্কিন যুদ্ধবিমান দিয়ে ‘নো-ফ্লাই জোন’ কার্যকর করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। ২০২২ সালে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভে কয়েকশ কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। যদিও এ বছর ফেব্রুয়ারি ও জুলাইয়ে ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের পর সরবরাহে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তা আবার চালু হয়।
এদিকে ন্যাটোর সামরিক প্রধানরা বুধবার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে ইউক্রেন পরিস্থিতি ও অগ্রগতির পথ নিয়ে আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ এ বৈঠকে ট্রাম্প-ভ্লাদিমির পুতিনের আলাস্কা বৈঠক সম্পর্কে সেনাপ্রধানদের ব্রিফ করবেন।