আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এই ঘোষণা দেন।
বিদায়ীবার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘সবকিছু নিখুঁতভাবে শেষ হয় না, তারপরও একটা সময় শেষ বলে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। শান্তি……….. আলহামদুলিল্লাহ।’
এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে অবসরের ঘোষণা দিলেন জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার। গত বুধবার ওয়ানডে থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম।
২০০৭ সালে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মাহমুদউল্লাহর। জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচও খেলেছেন ওয়ানডেতে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
মাহমুদউল্লাহ টেস্ট ও টি–টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছিলেন আগেই। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্ট খেলে সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। আর টি–টোয়েন্টি থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে হায়দরাবাদে খেলে।
২৩৯ ওয়ানডে খেলা মাহমুদউল্লাহ তিন সংস্করণ মিলিয়ে খেলেছেন মোট ৪৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। মুশফিক (৪৭০) ও সাকিব আল হাসানের (৪৪৭) পর এটি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
গত মাসে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মধ্যেই তাঁর অবসর নিয়ে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে জোরালো আলোচনা ছিল। তবে রাওয়ালপিন্ডিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪ বলে ৪ রানের ইনিংসটি নিয়ে সমালোচনা হলেও অবসর–প্রশ্নে চুপ ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৫ সালের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের যে তালিকা প্রকাশ করে, সেখানে জানানো হয় মাহমুদউল্লাহ মার্চ মাস থেকে চুক্তিতে না রাখতে অনুরোধ করেছেন।
এর দুই দিন পর আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দিলেন মাহমুদউল্লাহ।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সমস্ত প্রশংসা সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়লার। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এর পর জাতীয় দলের সব সতীর্থ, কোচ, এবং দর্শকদের সব সময়ের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ধন্যবাদবার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন বাবা–মা, শ্বশুর এবং ভাই এমদাদ উল্লাহর নাম। স্মরণ করেছেন স্ত্রী–সন্তানদেরও।
শেষাংশে সব পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘শান্তি…’।
২০০৭ থেকে ২০২৫—টানা ১৮ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা মাহমুদউল্লাহ ২৩৯ ওয়ানডেতে ৩৬.৪৬ গড়ে করেছেন ৫৬৮৯ রান। ৩২ ফিফটির সঙ্গে আছে ৪টি সেঞ্চুরি, যার সব কটিই আইসিসি টুর্নামেন্টে।
এ ছাড়া ৫০ টেস্টে ৫ সেঞ্চুরিসহ ২৯১৪ এবং ১৪১ টি–টোয়েন্টিতে ১১৭.৩৮ স্ট্রাইক রেটে ২৪৪৪ রান তাঁর। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দলকে ৪৩ টি–টোয়েন্টিতে নেতৃত্বও দিয়েছেন, যার মধ্যে ছিল ২০২১ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৬টি টেস্টেও।