বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ চাদ ও বাংলাদেশ
গত বছরে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের দেশের তালিকায় শীর্ষে ছিল আফ্রিকার দেশ চাদ ও বাংলাদেশ। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
১৩৮টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার নজরদারি স্টেশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে ১৫ গুণ খারাপ অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ ও চাদের বাতাস।
বায়ুদূষণে শীর্ষ দেশ ও শহর
আইকিউএয়ারের তালিকায় উদ্বেগজনক দূষণের দেশের মধ্যে চাদ ও বাংলাদেশের পরেই রয়েছে পাকিস্তান, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) এবং ভারত।
বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে ১২টিই ভারতের। শীর্ষ দূষিত শহর নয়াদিল্লি, যেখানে বাতাসে ক্ষুদ্র ও বিপজ্জনক পিএম ২.৫ কণার গড় মাত্রা ছিল ৯১.৮ মাইক্রোগ্রাম। এ তালিকায় ঢাকা রয়েছে তৃতীয় স্থানে, যেখানে পিএম ২.৫-এর গড় উপস্থিতি ছিল ৭৮ মাইক্রোগ্রাম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড ও বাস্তব চিত্র
WHO-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, পিএম ২.৫-এর গড় বার্ষিক মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়। অথচ ২০২৩ সালে চাদের বাতাসে এ মাত্রা ছিল ৯১.৮ মাইক্রোগ্রাম এবং ঢাকায় ৭৮ মাইক্রোগ্রাম, যা নিরাপদ সীমার বহু গুণ বেশি।
বায়ুমান পর্যবেক্ষণে সংকট
এশিয়া ও আফ্রিকায় বায়ুমান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। উন্নয়নশীল অনেক দেশ বায়ুমান পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেট ভবনে স্থাপিত সেন্সরের ওপর নির্ভর করত। তবে বাজেট সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি এ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের জন্য একটি ‘বড় ধাক্কা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৩ সালের প্রতিবেদনে তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে চাদকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তবে ২০২২ সালে দেশটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশ। সাহারা মরুভূমির ধুলাবালি ও অনিয়ন্ত্রিত ফসল পোড়ানো চাদের মারাত্মক দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
যেসব দেশ WHO-এর মানদণ্ড বজায় রেখেছে
মাত্র সাতটি দেশ WHO-এর নির্ধারিত মানদণ্ড বজায় রাখতে পেরেছে। দেশগুলো হলো:
- অস্ট্রেলিয়া
- নিউজিল্যান্ড
- দ্য বাহামাস
- গ্রানাডা
- এস্তোনিয়া
- আইসল্যান্ড
বায়ুদূষণ বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।