রবিবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬

রিক্যাপ’র তথ্য : বন্দর জলসীমায় কমছে জাহাজে দস্যুতার ঘটনা

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা কয়েক বছর আগে দস্যূতা মুক্ত ছিল, তবে ২০২৩ সালে ১টি এবং ২০২৪ সালে ১২টি দস্যুতার ঘটনা ঘটে। বিশেষত, গতবছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৪টি ঘটনা ঘটে। তবে, ২০২৫ সালে এসে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা আবারও নিরাপদ হয়ে উঠেছে, কারণ চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে কোনো দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি, যা রিক্যাপের তথ্যে উঠে এসেছে।

এশিয়ায় জাহাজে চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা রিক্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে বিশেষ কিছু কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলসীমায় দস্যুতার ঘটনা ধাপে ধাপে কমতে থাকে। ২০২৩ সালে এক বছরে মাত্র ১টি ঘটনা রেকর্ড হয়, যা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য সম্মানের বিষয় ছিল। তবে, ২০২৪ সালের শুরু থেকেই সেই সুনাম ভেঙে পড়ে, এবং জানুয়ারি থেকে দস্যুতার ঘটনা বাড়তে থাকে। ফেব্রুয়ারিতে ৩টি ঘটনা ঘটার পর, বছরের শেষে চট্টগ্রাম বন্দরে ১২টি এবং মোংলা বন্দরে ১টি ঘটনা ঘটে।

রিক্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে বাংলাদেশের জলসীমায় সবচেয়ে বেশি ২৪টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছিল। এরপর ধাপে ধাপে এই সংখ্যা কমে আসে, ২০১3 সালে ৬টি, ২০১4 সালে ১৬টি, ২০১8 সালে ১১টি এবং ২০১9 সালে শূন্যে নেমে আসে। ২০২০ ও ২০২২ সালে ৫টি করে ঘটনা রেকর্ড করা হয়, এবং ২০২৩ সালে মাত্র একটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়।

রিক্যাপের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের জলসীমায় মোট ১৭০টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৯টি ঘটনা (৯৪%) বন্দরে বা নোঙর করার সময় এবং ১১টি ঘটনা (৬%) জাহাজ চলাকালীন সময়ে ঘটেছিল।

বন্দরের জলসীমায় দস্যুতা, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ২০১৯ ও ২০২১ সালে দস্যুতা শূন্য ছিল।

Translate