ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ায় নতুন এক মোড় নিয়েছে জিম্মি বিনিময়ের বিষয়টি। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস শনিবার আরও ছয়জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিলেও, বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া আপাতত স্থগিত রেখেছে ইসরায়েল।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জিম্মিদের হস্তান্তরের সময় যে আয়োজন করা হয়েছে, তাকে তিনি ‘অপমানজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, হামাস জিম্মিদের মুক্তির মুহূর্তকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। সেই কারণেই শনিবার মুক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দীকে আপাতত মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।
হামাসের পক্ষ থেকে মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের বিশেষ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মুখোশ পরা হামাস যোদ্ধারা মঞ্চে নিয়ে যান মুক্তিপ্রাপ্তদের। সেখানে উপস্থিত গাজাবাসীর উদ্দেশে জিম্মিদের হাত নাড়তে এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। এ বিষয়টিকেই নেতানিয়াহু ও তাঁর মন্ত্রিসভা ‘অসম্মানজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত পালনের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার হামাস চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করলেও, ভুলবশত এক ব্যক্তির দেহাবশেষের জায়গায় অন্য কারও মরদেহ দেওয়া হয়, যা ইসরায়েল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করে। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করার পর সঠিক মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, হামাস জানিয়েছে, শর্ত মেনে চললে তারা এক ধাপে বাকি সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত। যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময়ের প্রতিটি ধাপে তাদের আন্তরিকতার বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।
বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ ৪২ দিনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, যার আওতায় ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ১ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নেতানিয়াহুর সরকার খুব একটা আগ্রহী নয়। বিশেষ করে, বেশিরভাগ জীবিত জিম্মি মুক্তি পাওয়ার পর উগ্রপন্থী শরিকদের চাপে গাজায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।