শনিবার ১৮ই জুলাই, ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫টি স্থাপনা থেকে শেখ পরিবারের নাম অপসারণের সিদ্ধান্ত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫ স্থাপনা থেকে শেখ পরিবারের নাম অপসারণের সিদ্ধান্ত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সড়ক, দুটি পার্ক এবং একটি সেতুর নাম রয়েছে। পাশাপাশি শাহবাগে অবস্থিত শিশুপার্কের নাম পরিবর্তন করে শহীদ জিয়া শিশুপার্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বোর্ড সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভা শেষে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাসেল রহমান জানান, মোট ১০টি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পরিবর্তিত নামের তালিকা:
দক্ষিণ সিটির পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বোর্ড সভায় নিম্নলিখিত স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে—

  • রায়ের বাজার স্লুইসগেট থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত: ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মণি সরণি’ বদলে আগের নাম ‘ইনার রিং সড়ক’
  • কামরাঙ্গীরচর: ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল সরণি’ বদলে আগের নাম ‘ঝাউচর প্রধান সড়ক’
  • কলাবাগান: ‘শহীদ শেখ রাসেল শিশুপার্ক’ বদলে আগের নাম ‘কলাবাগান শিশুপার্ক’
  • যাত্রাবাড়ী: ‘শহীদ শেখ রাসেল শিশু পার্ক’ বদলে আগের নাম ‘যাত্রাবাড়ী শিশুপার্ক’
  • কামরাঙ্গীরচর: ‘মেয়র শেখ তাপস সেতু’ বদলে আগের নাম ‘কামরাঙ্গীরচর ব্রিজ’

এছাড়া—

  • শাহবাগের ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশুপার্ক’ বদলে নতুন নাম ‘শহীদ জিয়া শিশুপার্ক’
  • ‘মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র’ বদলে আগের নাম ‘গেন্ডারিয়া সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র’
  • ‘মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন পার্ক’ বদলে আগের নাম ‘সরাফতগঞ্জ পার্ক’
  • ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম সরণি’ বদলে আগের নাম ‘কামরাঙ্গীরচর লোহারপুল-বুড়িগঙ্গা সড়ক’
  • ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র’ বদলে আগের নাম ‘কামরাঙ্গীরচর সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র’

সভায় নাগরিকদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রমজান মাসের আগে শহরের বিভিন্ন সড়কে গর্ত সংস্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভা শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের পর নতুন জনপ্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। তাই সীমিত সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নাগরিকদের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট থাকতে হবে।”

সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, সচিব মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঁঞাসহ করপোরেশনের বিভাগীয় প্রধান ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Translate