রবিবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬

বিএনপির সঙ্গে ছাত্রনেতার মধ্যে কোনও দূরত্ব কাম্য নয়।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে ছাত্রনেতা বা গণঅভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে কোনও দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি কাম্য নয়। তিনি সতর্ক করে জানান, এই ধরনের বিভেদ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও তাদের সহযোগীদের আরও উৎসাহিত এবং বেপরোয়া করে তুলতে পারে, এবং এর কিছুটা প্রমাণ আমরা সম্প্রতি দেখতে পেয়েছি।

এ কথা তিনি সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে উল্লেখ করেন।

আসিফ নজরুল বলেন, গত দুদিন ফেসবুক ছেয়ে গিয়েছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা ও ছাত্রনেতাদের পলায়নের গুজবে। এই গুজবের উন্মত্ততায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করেছে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে আমার কাছে দু-একজন ফোন করেছেন, ঘটনা কী জানার জন্য।’

আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, আমি যতটুকু জানি আর বিশ্বাস করি–

ক. বিএনপি ষড়যন্ত্র বা ১/১১ ধরনের কিছুতে আগ্রহী নয়।

খ. ছাত্রনেতারা সরকারে থাকা অবস্থায় কোনও রাজনৈতিক দল গঠন করছেন না বা এতে যোগ দিতে যাচ্ছেন না।

গ. জুলাই ঘোষণাপত্র হবে একটি রাজনৈতিক দলিল এবং এটি প্রণয়নে গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মতামত আন্তরিকভাবে প্রতিফলনের ইচ্ছা ছাত্রনেতাদের রয়েছে।

ঘ. বিএনপি ও ছাত্রনেতারা এমনকি নির্বাচনকেন্দ্রিক বৃহত্তর সমঝোতার বিষয়েও অনাগ্রহী নন। এর ধরণ ও ফর্মুলা আলোচনা সাপেক্ষে।

তিনি বলেন, তাই বিরোধের কোনও কারণ নেই। সবাইকে বরং বুঝতে হবে ঐক্য ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই।

আসিফ নজরুল বলেন, গণহত্যাকারীদের দল আওয়ামী লীগের হাতে রয়েছে লুটের লাখ লাখ কোটি টাকা, অনেক অন্ধ স্তাবক ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী, শক্তিশালী প্রচারণা নেটওয়ার্ক, তাদের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাশালী ভিন্ন রাষ্ট্র। তাদের রুখতে হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে মনে রেখে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু তা বাংলাদেশের শত্রুদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হয়ে ওঠার পর্যায়ে যেন না যায়।

Translate