প্রথম ১৮০ দিনে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি অঙ্গ মেরামতের কাজ চলছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “জনগণের কাছ থেকে আমরা ১ হাজার ৮২৫ দিনের ম্যান্ডেট পেয়েছি। তার মধ্যে মাত্র ১৮০ দিনের জন্য আজ জবাবদিহি করতে বসেছি।”
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার জবাবদিহির সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখবে। পর্যায়ক্রমে জনগণের সামনে হাজির হবে। আগামী দিনে সরকার আরও মসৃণভাবে নির্বাচনি ইশতেহার ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “যেকোনও ধ্বংসপ্রাপ্ত জিনিসকে কাজে লাগানোর আগে অনেক কাজ করতে হয়। আমরা আশা করি, মেয়াদের সামনের দিকে যত এগোবো, তত স্মুথলি আমরা আমাদের নেতার প্ল্যান এবং নির্বাচনি ইশতেহার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবো।”
তিনি বলেন, “পতিত সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ পুনর্গঠন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নের উপযোগী করার কাজ করছে সরকার। প্রথম ১৮০ দিনে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি অঙ্গ মেরামতের কাজ চলছে। জনগণের কাছ থেকে আমরা ১ হাজার ৮২৫ দিনের ম্যান্ডেট পেয়েছি। তার মধ্যে মাত্র ১৮০ দিনের জন্য আজ জবাবদিহি করতে বসেছি।”
তথ্যমন্ত্রী দেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের অন্যায়, অত্যাচার এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ কীভাবে গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়, তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেখা গেছে।
“অপরদিকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরলে মুক্তিকামী জনতা তাকে বিপুল সংবর্ধনা ও ভালোবাসা জানায়। সেখানেই তিনি ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করেছিলেন— আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।
“তৃতীয় ঘটনাটি হলো ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সেদিন আমাদের মাতৃতুল্য নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোটি মানুষকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে বিদায় নেন। ৫ আগস্টের ক্ষোভ এবং ২৫ ও ৩১ ডিসেম্বরের এই গণসম্পৃক্ততাই আমাদের সামনে পুরোনো পরিস্থিতি থেকে নতুন পরিস্থিতিতে রূপান্তরের বার্তা হাজির করেছে।”
তিনি বলেন, “কী পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ থাকলে মানুষের এত ক্ষোভ থাকতে পারে যে ফ্যাসিবাদ পালাতে বাধ্য হয়? আমাদের এখনকার পুরো পরিকল্পনাটিই হলো এই ধ্বংসস্তূপকে পরিকল্পনামাফিক পুনর্গঠনের কাজে নিয়ে যাওয়া। আমরা এখন সেই পর্বটিই অতিক্রম করছি।”
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।