শুক্রবার ৩রা জুলাই, ২০২৬

ভিনিসিয়াসের সাফল্যের পেছনে আনারস!

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। গ্রুপপর্বে তিন ম্যাচে চারটি গোল করেন তিনি। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়েও গোল করাচ্ছেন ভিনিসিয়াস। ব্রাজিলিয়ান এই তারকার পারফরম্যান্সের রহস্য কী?

ফরাসি দৈনিক লেকিপ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ম্যাচ বা ব্যায়ামের আগে আনারস খাওয়া কি সত্যিই পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, নাকি এটি কেবল ভিনিসিয়াসের ব্যক্তিগত রুটিন?

১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে ৬-০ গোলে জয়ের আগে ভিনিসিয়াসকে আনারস খেতে দেখা যায়। এরপরই বিষয়টি ব্রাজিলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সমর্থক মজা করে বলতে শুরু করেন, ভিনির গোলের পেছনে বুঝি আনারসেরও অবদান আছে!

অবশ্য এই অভ্যাস নতুন নয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগেও আনারস খেয়েছিলেন ভিনি। সেই ম্যাচে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন। এরপর থেকে অনেক সমর্থকের কাছে আনারস যেন তার লাকি চার্ম।

ক্রীড়া পুষ্টিবিদরা বলছেন, আনারস কোনো জাদুকরি পারফরম্যান্স-বর্ধক খাবার নয়। আল আহলির পুষ্টিবিষয়ক প্রধান নেসান কস্তেলোর মতে, কয়েক টুকরো আনারসে ৫ থেকে ১০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ৩০ থেকে ১০০ মিলিলিটার পানি পাওয়া যায়। অথচ ফিফার সুপারিশ অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালে প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ প্রয়োজন। তাই ৭৩ কেজি ওজনের ভিনিসিয়াসের জন্য শুধু আনারস খেয়ে প্রয়োজনীয় শক্তি ও তরলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

ম্যাচের আগে আনারস খাওয়া ভিনিসিয়াসের জন্য হয়তো স্বস্তির একটি রুটিন। কিন্তু তার গোল কিংবা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রহস্য সেখানে নয়। বরং নিয়মিত অনুশীলন, শারীরিক প্রস্তুতি এবং মাঠে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্যই তাকে সময়ের সেরা ফুটবলারদের একজন করেছে।

Translate