মঙ্গলবার ৩০শে জুন, ২০২৬

উন্নত বিশ্বে ৭০ শতাংশ ট্রান্সপ্লান্ট মরণোত্তর কিডনি দাতার মাধ্যমে

উন্নত বিশ্বে ৭০ শতাংশ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট মরণোত্তর কিডনি দাতার কিডনি দান করার মাধ্যমে হয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স উপলক্ষে ‘জীবন্ত এবং মৃত দাতার কিডনি প্রতিস্থাপন, ২০২৬’ সেমিনারে এ তথ্য জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন রুবেল, কোরিয়ান কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. কুরি এন ও অস্ট্রেলিয়ান কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেরিমি চ্যাপম্যানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, উন্নত বিশ্বে ব্রেইন ডেথ (Brain Death) হওয়া রোগীদের অঙ্গ নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ ও প্রতিস্থাপনের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও বিশ্বমানের হাসপাতাল সুবিধা রয়েছে। জীবিত নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে কিডনি নিলে দাতার ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। তাই মরণোত্তর অঙ্গদানই প্রধান বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। উন্নত দেশে মৃত্যুর আগে অঙ্গদানের অঙ্গীকার (Organ Donation Pledge) করার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

তাদের মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অঙ্গ সংযোজন আইন সহজ করা হলেও মরণোত্তর প্রতিস্থাপন এখনো সেভাবে চালু হয়নি। দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ কিডনি বিকল হওয়ায় মারা গেলেও মরণোত্তর অঙ্গদান বা ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের হার খুবই সামান্য।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে ১০ হাজার রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। তবে দেশে বছরে গড়ে মাত্র ২৫০ জনের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। আইনি জটিলতা এড়াতে বছরে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মানুষ বিদেশ গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করছেন। বিদ্যমান আইন সংশোধন হলে দেশে এসব কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে।

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন হয়। ২০১৮ সালে এই আইন কিছুটা সংশোধন করা হয়। সংশোধনী অনুযায়ী, ২৩ জন নিকটাত্মীয়ের বাইরে কেউ কোনো রোগীকে কিডনি দান করতে পারেন না। তবে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আত্মীয় না হলেও কিডনি দানের সুযোগ রয়েছে।

তবে দেশে আইনের সীমাবদ্ধতায় আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলে কেউ চাইলেও কিডনি দান করতে পারেন না। ফলে দাতা সংকটের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় দেশে খুব কম কিডনি প্রতিস্থাপন হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে ৮৫ কোটির বেশি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত। দুঃখজনক হলেও সত্য, এর মধ্যে ৭৫ কোটি রোগী জানে না প্রাণঘাতী কিডনি রোগ নীরবে তাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ এ অঙ্গ নষ্ট করে চলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ লাখের বেশি কিডনি বিকল রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করবে। প্রতিবছর ১ কোটি ৩০ লাখ লোক আকস্মিক কিডনি বিকল রোগে আক্রান্ত হয়, যার ৮৫ ভাগই আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে।

Translate