জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালুর পাশাপাশি ‘লাভ জিহাদ’ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার (২৬ জুন) কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের সার্ধশতবার্ষিকী (১৫০ বছর) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।
শুভেন্দু অভিযোগ করেন, রাজ্যে অনুপ্রবেশের কারণে জনমিতিক পরিবর্তন ঘটছে, যা সামাজিক কাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জনগণকে কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রামকৃষ্ণ, চৈতন্য মহাপ্রভু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই পবিত্র ভূমিতে কোনো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি জানান, তার সরকার সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বন্দোবস্ত করে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, যারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে দেশের সংস্কৃতি ও নিরাপত্তার ক্ষতি করছে, তাদের ফেরত পাঠানো হবে। তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আসা হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নন, বরং তারা শরণার্থী হিসেবে ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘এক দেশ, এক বিধান, এক প্রধান, এক নিশান’ স্লোগানের প্রতি তার সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শুভেন্দু অধিকারী তাকে একজন দূরদর্শী সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও প্রশাসক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ গানটি দেশের জন্য একটি ‘সঞ্জীবনী মন্ত্র’ যা দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
এই প্রথম রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় বঙ্কিমচন্দ্রের পৈতৃক ভিটায় এবং কলকাতায় তার বাসভবনে রাষ্ট্রীয়ভাবে জন্মবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের আমলে বঙ্কিমচন্দ্রের কলকাতা বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সূত্র: এনডিটিভি।