সোমবার ১৫ই জুন, ২০২৬

আমাদের আরো বেশি নার্সিং ইনস্টিটিউশন দরকার

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বেশি নার্সিং ইনস্টিটিউশন হওয়া দরকার বলে উল্লেখ করে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নার্সিং পেশায় ফিলিপাইন, ভারত ও শ্রীলঙ্কানরা অনেক এগিয়ে গেছে, আমরাও এগিয়ে যেতে চাই। কিন্তু আমাদের একটাই বাধা সেটা হচ্ছে আমরা ইংরেজিতে দক্ষ না। আমরা যখন ইংরেজিতে দক্ষ হবো, তখন বিদেশের সব জায়গায় আমাদের চাকরির দরজা খুলে যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে নগরীর আগ্রাবাদ ডেবারপাড়স্থ ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের এট্রিয়াম হলে ক্লাবের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিবসটি পালিত হয়।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সভাপতি স্থপতি সোহাইল মোহাম্মদ শাকুর। কি-নোট স্পিকার ছিলেন প্রফেসর ডা. মেহেরুন নিসা খানম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম ও ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার এবিএম ইফতেখার আলম সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত শিশু নিবাস উপলব্ধি’র শিশুরা নৃত্য পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি করে।

 

ক্যাডেট কলেজ ক্লাব চিটাগং লিমিটেডের পক্ষ থেকে নার্সিং কলেজের তিন কৃতি শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

 

মেয়র আরও বলেন, আমি লন্ডন ও কানাডার মন্ত্রী এবং স্থানীয় মেয়রদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, সেখানে যদি কেউ নার্সিংকে পেশা হিসেবে নেয় তারা অনেক বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা এই পেশাটিকে বাংলাদেশে মূল্যায়ন করতে পারছি না। আমি মনে করি নার্সেস বা কেয়ার গিভিং এইসব জায়গায় আমাদের যথেষ্ট মনোযোগ দিতে হবে। এসব পেশা খুব অবহেলিত, কিন্তু এরাই অধিকাংশ আমাদের রোগীদের পাশে দাঁড়ায়।

 

অনেক চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে নার্সরা রোগীদের সেবা দিচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, অনেক রোগী ইনফেকশন নিয়ে আসছে। আমাদের নার্স তাদের রিসিভ করছে। কোন ইনভেস্টিগেশন করার সুযোগও পাচ্ছে না।
মেডিকেল উপাচার্য বলেন, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড নার্সের জন্য আমাদের শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এর জন্য নার্সিং সেক্টরে ইংরেজি এবং কম্পিউটার স্কিল বাড়াতে হবে। যেটা একটু আগে মেয়র বলেছেন।

 

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২৩টা নার্সিং কলেজ আছে। তিনটা সরকারি আর বাকি ২০টা বেসরকারি। প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয় নার্সিংয়ে। এখন ছেলেরা অনেক এগিয়ে আসছে সেটা খুব ভালো লাগছে। আমরা অনেকেই ভুলে যায় যে এটা কোন সহজ পেশা না। অনেকেই মনে করেন নার্সিং পেশার লোকজনদেরকে খুব বেশি সম্মান করা হয় না। আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই করোনার সময় প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার হেলথকেয়ার ওয়ার্কারস মারা গেছে। বাংলাদেশে প্রায় ২ হাজার ২০০ নার্স আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৫ জন মারা গেছেন। আপনারা যারা এই পেশার সঙ্গে জড়িত না নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে কতটুকু কমিটমেন্ট নিয়ে এরা কাজ করেছে।

Translate