দুই কারণে এবার হালদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী রুই জাতীয় মাছের ডিম মেলেনি। এবার মাত্র ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেন আহরণকারীরা। অথচ এক বছর আগে ২০২৫ সালে হালদায় রেকর্ড পরিমাণ ১৪ হাজার কেজি ডিম পাওয়া গেছে।
প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী থেকে গত ৩০ এপ্রিল পূর্ণিমার জো’তে জোয়ারে দুপুর ১২টায় এবং একইদিন রাত ১১টায় জোয়ারে দুই দফায় ডিম সংগ্রহ করে আহরণকারীরা। তবে ডিমের পরিমাণ বেশি ছিল না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষক টিমের তথ্য অনুযায়ী নদী থেকে প্রায় ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করে আহরণকারীরা। তাতে প্রায় ২৫০ নৌকার ৫০০ ডিমসংগ্রহকারী নিয়োজিত ছিলেন।
জানতে চাইলে নদী বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া পূর্বকোণকে বলেন, ‘মূলত এবার দুই কারণে হালদা থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী ডিম মেলেনি। সাধারণত মওসুমের প্রথম বৃষ্টিতে হালদায় ডিম ছাড়ে না রুই জাতীয় মাছ। প্রথম বৃষ্টিতে হালদা নদী এবং এর শাখা খালসমূহ থেকে কঠিন ও তরল বর্জ্য ধুয়ে যায়। এরপর পরবর্তী বৃষ্টির আশায় ডিম সংগ্রহকারীরা কুয়া তৈরি, ডিম আহরণের নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করে এবং কাক্সিক্ষত ‘জো’র অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু এবার ৩০ এপ্রিল হঠাৎ ভারী বৃষ্টি হয়। নদীতে নামে উজান থেকে তীব্র পাহাড়ি ঢল। এ অবস্থায় অনেকটা প্রস্তুতি ছাড়ায় হালদায় নেমে পড়েন ডিম সংগ্রহকারীরা। তাও আবার অন্যান্য বছরের ন্যায় ছিল না বিপুল সংখ্যক ডিম সংগ্রহকারীও। দুই দফায় তারা মাত্র ছয় হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেন। অথচ আগের বছর ২০২৫ সালের ২৯ মে হালদা থেকে রুই জাতীয় মাছের রেকর্ড পরিমাণ ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন আহরণকারীরা। বর্তমানে তারা ডিমগুলো হ্যাচারিতে রেণু ফোটানোর জন্য ব্যস্ত রয়েছেন।’
প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, ‘তবে এখনো হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এ বছর আরো ৪টি ‘জো’ রয়েছে। সব কিছু অনুকূল থাকলে এসব জো’তে রুই জাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) মাছ ডিম ছাড়বে হালদায়।’
হালদা নদীতে প্রতিবছর রুই জাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ডিম ছাড়ে। প্রথমে কয়েক দফায় মা মাছ নমুনা ডিম (ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ আছে কিনা সামান্য ডিম ছেড়ে পরীক্ষা করে মা মাছ) ছাড়ে। ডিমের আশায় সংগ্রহকারীরা নৌকা, ডিম ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকে পর্যাপ্ত বৃষ্টির আশায়। ডিম ধরার উপযুক্ত পরিবেশ- ভরা পূর্ণিমা বা আমাবস্যায় মেঘের গর্জন, ভারী বর্ষণ, নদীতে পাহাড়ি ঢল নামলে হালদায় ডিম ছাড়ে রুই জাতীয় মাছ। তাতে ডিম আহরণের উৎসবে মেতে উঠেন সংগ্রহকারীরা।