লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে লিথানি নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ভয়াবহ হামলার পর দেশটিতে স্থল অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। বৈরুত এই হামলাকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ বলে নিন্দা জানালেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে লিথানি নদীর ওপর থাকা সেতুগুলো ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ এই সেতুগুলো ব্যবহার করে নদী পারাপার হতো। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএনএ জানিয়েছে, টায়ার শহরের কাছের ওই সেতুটিতে পর পর তিনটি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরে সেখানে চতুর্থ দফায় আরও একটি হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান মাত্র শুরু হয়েছে। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী অপারেশন। আমরা এখন একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্যভিত্তিক স্থল অভিযান ও হামলা এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। অন্যদিকে, সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বর্ধিত স্থল অভিযান শুরু হবে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, সেতুতে হামলা ‘বিপজ্জনক উসকানি এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’। একে স্থল অভিযানের একটি প্রস্তাবনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লিথানি নদীর ওপর সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো দক্ষিণ লেবাননের সঙ্গে দেশটির বাকি অংশের ভৌগোলিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।
এনএনএ-র তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় সেতুর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা, দোকানপাট, বাগান ও পার্কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত সংলগ্ন তাইবেহ শহরে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ইসরায়েলি বাহিনী উড়িয়ে দিচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, রবিবার লেবানন থেকে ছোড়া রকেট হামলায় এক ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহতের কথা প্রথমে জানায় তেল আবিব। তবে পরে তারা জানায় যে, এই ঘটনাটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) নিজেদের গুলিতে ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।