রবিবার ৩রা মে, ২০২৬

ইসরায়েলে ইরানি হামলায় আহত শতাধিক, কঠিন সন্ধ্যা বললেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি শহরে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১৭ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুখতে ব্যর্থ হওয়ায় সরাসরি আঘাত হানে বসতবাড়িতে। এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েূছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দিমোনা শহরে চালানো এই হামলা ছিল তেহরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে চালানো হামলার একটি জুতসই জবাব। উল্লেখ্য, দিমোনা শহরেই ইসরায়েলের একটি পরমাণু কেন্দ্র অবস্থিত।

দেশটির জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই পার্শ্ববর্তী দিমোনা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও ৩৩ জন আহত হন।

ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আবাসিক ভবনগুলোর সামনের অংশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং মাটিতে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দিমোনা ও আরাদ শহরে শত শত কেজি ওজনের শক্তিশালী ওয়ারহেডবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, আরাদ শহরে তিনটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটিতে আগুন ধরে যায়।

ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফফি ডেফরিন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা যায়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং এ থেকে শিক্ষা নেব।’

হামলার পর ওই অঞ্চলের স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দিয়েছে সামরিক বাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকর্মী রিয়াদ আবু আজাজ জানিয়েছেন, সেখানে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে।

হামলার পর এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতের লড়াইয়ে এটি একটি অত্যন্ত কঠিন সন্ধ্যা। তবে আমরা সব ফ্রন্টে শত্রুদের ওপর আঘাত অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

Translate