সোমবার ২০শে এপ্রিল, ২০২৬

ন্যাটো মিত্রদের ট্রাম্পের হুমকি: ইরান নিয়ে মার্কিন যুদ্ধকৌশলের দুর্বলতা?

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট কোনও যুদ্ধকৌশল নেই। শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আহ্বানে এই বিষয়টিই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও জাপানসহ অন্যান্য দেশগুলো যাতে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার পাহারায় অংশ নেয়, এমন দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলেও, এর পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউজ পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের সামনে সামরিকভাবে পালটা আঘাতের সুযোগ সীমিত হলেও মার্কিন ঘাঁটি, মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে পশ্চিমারা যে বড় মাশুল দিতে পারে, সেটি তারা আগেই আন্দাজ করেছিল।

দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের নৌবাহিনী ও মিসাইল সাইটগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর থেকে ইরানের যুদ্ধের হুমকি দূর হয়নি। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৬টি জাহাজে হামলা হয়েছে। ফলে কোনও ট্যাঙ্কারই এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে চাইছে না।

দশ দিন আগে ট্রাম্প ট্যাঙ্কার মালিকদের সাহস দেখাতে বললেও মার্কিন নৌবাহিনী নিজে সেখানে এগিয়ে যেতে আগ্রহী ছিল না। থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের ম্যাথিউ সেভিল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এটি করেনি কারণ তাদের আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ওমান থেকে ২০০ কিমি দূরে থেকে নিরাপদে ইরানে আঘাত করতে পারছে।

তবে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাঙ্কার পাহারার কাজে নামতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান এখন চালকবিহীন নৌযানের মাধ্যমে সফলভাবে হামলা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের একটি জাহাজে এমন একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক স্পিডবোট এবং প্রায় ৫ হাজার সামুদ্রিক মাইন রয়েছে।

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি তার মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে আগেই চার স্তরের উত্তরাধিকারী নির্বাচন করে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন।

সামরিক শক্তিতে অতি-আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প ইসরায়েল ছাড়া অন্য কোনও দেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন না। ফলে যুদ্ধের আগে মিত্রদের মধ্যে কোনও নৌ-প্রস্তুতি ছিল না। ব্রিটেন, ফ্রান্স বা জাপানের কোনও রণতরিই এই মুহূর্তে কনভয় ডিউটির জন্য প্রস্তুত নয়।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো মিত্রদের এই অভিযানে অংশ নেওয়া উচিত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তারা সাহায্য না করে তবে এই জোটের ভবিষ্যৎ খুবই খারাপ হতে পারে। অথচ ন্যাটোর পরিধি শুধু ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা কেন্দ্রিক।

ফ্রান্স ভূমধ্যসাগরে জাহাজ পাঠালেও তীব্র লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে যেতে রাজি নয়। যুক্তরাজ্য নিজেদের রণতরি এইচএমএস ড্রাগন পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে রাজকীয় নৌবাহিনী উত্তর আটলান্টিকে ট্রাম্পেরই এক পুরনো আবদার রক্ষায় ব্যস্ত ছিল। জাপান জানিয়েছে তারা এখনও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পায়নি। অন্যদিকে চীন কোনও সাড়া না দেওয়ায় ট্রাম্প তার বেইজিং সফর স্থগিত করতে পারেন।

লয়েডস লিস্টের সম্পাদক রিচার্ড মিড জানান, কার্যকর পাহারার জন্য অন্তত ৮ থেকে ১০টি ডেস্ট্রয়ার প্রয়োজন, যা দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ১০টি জাহাজ পার করা সম্ভব। এটি যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক যাতায়াতের মাত্র ১০ শতাংশ।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Translate