সোমবার ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি সংকটে রান্নাঘর: ইফতার-সেহরিতে বাড়ছে দুর্ভোগ

দেশীয় খনিতে উৎপাদন হ্রাস এবং এলপিজি বাজারের অস্থিরতায় রমজানের শুরুতেই রান্নার জ্বালানি নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সারাদিন রোজা রেখে ইফতার ও সেহরির সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় অনেক এলাকায় রান্না করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের অন্তর্বর্তী সরকার রমজানের আগে এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। নতুন সরকারও দায়িত্ব নেওয়ার দিনই ইফতার, সেহরিতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখছেন না গ্রাহকরা।

ফলে চলছি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া এলপিজির অস্থির বাজার এখনও অস্থির রয়ে গেছে। অন্যদিকে দেশে পাইপ লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়েনি। সব মিলিয়ে বাসাবাড়ির গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে ভোগান্তি নিয়েই রোজা পার করছেন সাধারণ মানুষ।

 

চড়া দামে এলপিজি, গ্রাহকের ক্ষোভ

বাজারে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ গত মাসের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও দাম এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়।

 

দুদিন আগে এলপিজি কিনেছেন এমন ইমন রাহাত নামের একজন গ্রাহক জানান, গত মাসে ২ হাজার ৪০০ টাকায় কেনা সিলিন্ডার এখন ১ হাজার ৯০০ টাকায় পাচ্ছেন, যা সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি।

 

রাজাবাজারের বাসিন্দা নিতু চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোজার আগেই শুরু হয়েছিল গ্যাসের সমস্যা। এরপর এলপিজি দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলাম। এখন চুলায় গ্যাস নেই, এলপিজির দাম আকাশছোঁয়া। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি। এখন গ্যাস বিলও দেবো, আবার বাড়তি বিদ্যুৎ বিলও গুনবো।”

 

সংকট ও সরবরাহের চিত্র

তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) সাইদুল হাসান বাংংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে আগের সপ্তাহের তুলনায় আমরা গ্যাস বেশি পাচ্ছি। তবে রোজার কারণে চাহিদা অনেক বেশি। সেটা এই সরবরাহ দিয়ে সম্পূর্ণ পূরণ করা সম্ভব না।”

 

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে দৈনিক ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে ৯৫২ মিলিয়ন এবং দেশীয় খনি থেকে ১ হাজার ৬৯২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল ছাড়া আমদানি বাড়িয়েও পাইপলাইনে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।

 

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

 

কাঁঠালবাগান এলাকার এক এলপিজি ডিলার জানান, রোজার আগে থেকেই গ্যাসের চাহিদা বেশি। সে তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসের দাম বেশি। এখন রোজার মধ্যে বিকালে ইফতারের সময় বেশিরভাগ জায়গায় গ্যাস থাকে না। বিকল্প হিসেবে অনেকেই এলপিজি কিনছে। এতে আরও সমস্যা বাড়ছে। তিনি আরও জানান, আজকে ১২ কেজির এলপিজি ১৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন। কোম্পানি থেকে বা হয়েছে, এই মাস শেষ হয়ে সাপ্লাই বাড়তে পারে তখন হয়তো দাম কিছুটা কমবে।

 

তবে আশার কথা শুনিয়েছেন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ পর্যন্ত ৯১ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি দেশে এসেছে। চলতি মাসের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টন এলপিজি ঢুকবে দেশে। সব মিলিয়ে আগামী মাসের শুরুতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং দামও কমে আসবে বলে আশা করছি।”

Translate