বুধবার ২২শে এপ্রিল, ২০২৬

বলিউডে অনুপস্থিত রাহমান: ‘হয়তো এটা সাম্প্রদায়িক বিষয়’

বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী সংগীত পরিচালক হলেও, হিন্দি গানের জগতে নিজেকে স্বচ্ছন্দ মনে করতে তার লেগেছিল টানা সাত বছর। ১৯৯১ সালে মণি রত্নমের রোমান্টিক থ্রিলার ‘রোজা’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। এরপর মণি রত্নমের সঙ্গে তিনি করেন ট্রিলজি- ‘রোজা’, ‘বোম্বে’ (১৯৯৫) এবং ‘দিল সে..’ (১৯৯৮)। একই সময়ে রাম গোপাল ভার্মার ১৯৯৫ সালের রোমান্টিক কমেডি ‘রঙ্গিলা’, সুভাষ ঘাইয়ের ১৯৯৯ সালের রোমান্টিক ড্রামা ‘তাল’ দিয়েও তিনি আলাদা ছাপ ফেলেন, যা মণি রত্নমের ছবিগুলোর চেয়ে একেবারেই ভিন্ন ঘরানার ছিল।

যে সুরকার মনে করেন, বলিউডে নিজেকে ‘ইনসাইডার’ হিসেবে ভাবতে তার বহু বছর লেগেছে। এরপর নিজেকে সর্বোচ্চ সফল হিসেবে প্রমাণ করার পর ঘটে আরেক বিস্ময়কর ঘটনা। কারণ, গত আট বছর বলিউডের সংগীতে তিনি অনুপস্থিত।

রাহমান বলেন, “আসলে ‘রোজা’, ‘বোম্বে’ আর ‘দিল সে..’-এই তিনটি ছবিতেও আমি একজন আউটসাইডারই ছিলাম। কিন্তু ‘তাল’ দিয়ে নিজেকে ইনসাইডার ভাবতে শুরু করি। কারণ, গানগুলো সবার রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছিল। আজও উত্তর ভারতের বেশিরভাগ মানুষের রক্তে ‘তাল’ মিশে আছে, কারণ এতে একটু পাঞ্জাবি আছে, একটু হিন্দি আছে, আবার পাহাড়ি সুরের ছোঁয়াও রয়েছে।”

তার মতে, এতদিন তিনি হিন্দি সিনেমার অংশ মনে করতেন না নিজেকে, কারণ তিনি ‘কখনোই হিন্দি বলতেন না’! রাহমান বলেন, ‘‘একজন তামিল মানুষের জন্য হিন্দি বলা খুব কঠিন, কারণ আমাদের ভাষার সঙ্গে গভীর আবেগ জড়িয়ে থাকে। কিন্তু তখন সুভাষ ঘাই আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার সংগীত ভালোবাসি, কিন্তু যদি তুমি এখানে দীর্ঘদিন থাকতে চাও, তাহলে হিন্দি শিখতে হবে।’ তখন আমি বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে, তাহলে আরও এক ধাপ এগিয়ে উর্দু শিখি, কারণ ষাট ও সত্তরের দশকের হিন্দি সংগীতের মূল ভাষা ছিল উর্দু।’’

বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে এমনটাই বলেন রহমান।

এরপর তিনি আরবি ভাষা শেখেন, কারণ উচ্চারণের দিক থেকে এটি উর্দুর সঙ্গে অনেকটাই মিল। রাহমান বলেন, ‘তারপর সুখবিন্দর সিং যখন আমার দুনিয়ায় এলেন, তখন তার প্রভাবেই আমি পাঞ্জাবির দিকে ঝুঁকে পড়ি। সুখবিন্দরকে নেওয়ার কারণ ছিল, আমি খুঁজছিলাম এমন একজন গায়ক, যিনি পাঞ্জাবিতে গান গাইতে এবং লিখতে পারেন। তখন আমার বন্ধু ব্রিজ ভূষণ সুখবিন্দর সিংয়ের নাম প্রস্তাব করেন।’

এরপর রাহমান ও সুখবিন্দর একসঙ্গে কাজ করেন একাধিক আইকনিক গানে। যেমন ‘দিল সে..’ ছবির ‘ছাইয়াঁ ছাইয়াঁ’, ‘তাল’–এর ‘রমতা যোগি’ এবং ড্যানি বয়েলের ২০০৮ সালের ব্রিটিশ ছবি ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’–এর অস্কারজয়ী গান ‘জয় হো’।

যখন রাহমানকে জিজ্ঞেস করা হয়, হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে ‘অভ্যন্তরীণ পক্ষপাত’ আছে কি না, কিংবা বলিউডে তামিল সম্প্রদায় বা মহারাষ্ট্রের বাইরের মানুষদের প্রতি বৈষম্য করা হয় কি না। কারণ, গত ৮ বছরে রাহমানকে সে অর্থে পাওয় যায়নি হিন্দি গানে।

এর জবাবে এ আর রাহমান বলেন, ‘হয়তো আমি কখনও সেটা বুঝতেই পারিনি, হয়তো সেটা আড়ালে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আমি নিজে কখনও তা অনুভব করিনি। তবে গত আট বছরে হয়তো ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, আর এখন ক্ষমতায় আছে এমন মানুষরা, যারা সৃজনশীল নয়। হয়তো এটা সাম্প্রদায়িক বিষয়ও হতে পারে… কিন্তু এটা আমার সামনে সরাসরি আসেনি। আমার কাছে অনেক প্রস্তাবই আসে। কিন্তু পরে মিউজিক কোম্পানি গিয়ে তাদের পাঁচজন কম্পোজারকে নিয়োগ দিয়ে দেয়। আমি বলি, ভালোই তো! তাতে আমার পরিবারকে নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ বেশি পাই। আমি কাজ খুঁজে বেড়াই না। আমি চাই না কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়াতে। আমি চাই কাজ আমার কাছে আসুক; আমার আন্তরিকতাই যেন আমাকে কাজ এনে দেয়। আমি যা পাওয়ার যোগ্য, সেটাই আমি পাই।’

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Translate