ভারতের বিমান নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা মারাত্মক কর্মী সংকট ভুগছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি সতর্ক করেছে। বিষঠি কর্মীদের দায়িত্ব পালনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। বুধবার (২০ আগস্ট) সংসদের উচ্চকক্ষে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরে কর্মীদের ‘গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি’ বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা রক্ষায় এক ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ তৈরি করছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার ১২ জুনের বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর, বিমান নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আইনপ্রণেতাদের।
যদিও প্রতিবেদনে ওই দুর্ঘটনার উল্লেখ নেই। তবে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত কাজের চাপসহ বিভিন্ন উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে অতীতে সেগুলো আইন প্রণয়নের কর্মসূচি ও কখনও কখনও বিধিবিধানকে প্রভাবিত করেছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিমান বাজার ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি দেখেছে। তবে এর পেছনে বাজেট এয়ারলাইন্স, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বিমানবন্দরের মাধ্যমে সংযোগ সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগ ভূমিকা রেখেছে।
কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও এসেছে। যেমন: যোগ্য কর্মীর সংকট, বিদ্যমান কর্মীদের ক্লান্তি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা।
এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনার পর থেকে এয়ারলাইন্স এবং ভারতের বৃহত্তর বিমান খাত কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
শাসক ও বিরোধী দল উভয়ের আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটি ভারতের বিমান খাতে একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা তালিকাভুক্ত করেছে এবং সংস্কারের সুপারিশ করেছে।
তারা বলেছে, মারাত্মক কর্মী সংকটের কারণে ‘বর্তমান কাঠামোয় বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর দায়িত্ব পালনের অবস্থায় নেই’।
মোট ১ হাজার ৬৩ পদে মাত্র ৫৫৩টি পূরণ হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৫০ শতাংশ ঘাটতি। চলতি মাসের শুরুর দিকে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় সংসদে এ সংকট নিয়ে বলেছিল যে, এটি বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের কার্যক্রমে কোনও প্রভাব ফেলেনি।”
কমিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘ধীর এবং অনমনীয়’ বলে উল্লেখ করেছে, যা দক্ষ জনবল আকর্ষণে বাধা দিচ্ছে।
প্যানেল প্রস্তাব দিয়েছে যে এই সমস্যা সমাধানে বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরকে ‘পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন’ দেওয়া উচিত।
কমিটি আরও চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছে, যেমন: এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারদের ক্লান্তি।
এছাড়া প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, কিছু কর্মী যথেষ্ট প্রশিক্ষিত নন এবং নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সক্ষমতার বর্তমান অমিল, সঙ্গে অতিরিক্ত কার্যক্রমের চাপ, আকাশসীমা নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি ও চলমান হুমকি তৈরি করছে।
প্রতিবেদনে অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে সুপারিশ করা হয়েছে যে, প্রতিটি রানওয়ে অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা, যেমন: পাখির আঘাত নিয়ে বিস্তারিত মূল কারণ বিশ্লেষণ বাধ্যতামূলক করা হোক।
রানওয়ে অনুপ্রবেশ হলো এমন ঘটনা, যখন একটি বিমান নির্ধারিত অবতরণ ও উড্ডয়নের জায়গা থেকে সরে যায়। প্রতিবেদনে এগুলোকে ‘উচ্চ-পরিণামমূলক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করে।
ফলে প্যানেল ত্রুটি রিপোর্টিং সিস্টেম উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।