জাপানে বাবাকে হত্যার অভিযোগে ছেলেকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তি ভালুকের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন বলে অনুমান করা হলেও, পরবর্তী সময়ে তার দেহে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯৩ বছর বয়সী ফুজিইয়োশিকে হত্যার সন্দেহভাজন হিসেবে তার ছেলে ৫১ বছর বয়সী ফুজিইয়োকি শিনদোকে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) আটক করা হয়েছে। তারা দেশের উত্তরাঞ্চলীয় আকিতা প্রিফেকচারে বাস করতেন
ওই বৃদ্ধের মরদেহ সবার আগে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তার স্ত্রী। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর পেছনে ভালুকের আক্রমণ সন্দেহ করে সতর্কতামূলক বার্তা প্রেরণ করে স্থানীয় পুলিশ কার্যালয়। তবে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা মৃতের দেহে ছুরিকাঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জখমের চিহ্ন পেয়ে পরে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়।
জাপানের উত্তরাঞ্চলে জনপদে ভালুকের উপস্থিতি প্রায় সাধারণ ঘটনা। সেখানে বন্যপ্রাণিদের বাসযোগ্য ভূমি মানুষের কারণে সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এটা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সময় বাড়িতে অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়েনি বলে দাবি করেছিলেন গ্রেফতার হওয়া ফুজিইয়োকি।
জিজি প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বাড়ি থেকে একাধিক ছুরি জব্দ করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র নির্ধারণে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, সম্ভাব্য হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
বৃদ্ধ ফুজিইয়োশির মৃত্যুর কারণ প্রাথমিকভাবে ভুল ধারণা করার কারণ হলো, দেশটিতে বিগত কয়েক বছরে ভালুকের আক্রমণে সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে অন্তত ২১৯ জন মানুষ ভালুকের হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়।
গত জুলাই মাসে, এক আবাসিক এলাকায় বাদামি ভালুকের আক্রমণে এক সংবাদপত্রের হকার মারা যান।
লোকালয়ে ভালুকের হামলা বেড়ে যাওয়ায় শিকারের আইন কিছুটা শিথিল করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি শিকারিরা হাজারো ভালুক ফাঁদে আটকে হত্যা করেছে।