ভারতের হিমালয়ান রাজ্য উত্তরাখণ্ডে আকস্মিক বন্যায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরকাশি জেলার ধারালি গ্রামে ভারী বৃষ্টির পর প্রবল স্রোতে ঢল নামলে এই বিপর্যয় ঘটে। উদ্ধারকাজ চলছে, তবে ভারী বৃষ্টিপাত ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কপথের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
উত্তরকাশির ধারালি গ্রামটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হলেও এখন কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। হরশিলের ভারতীয় সেনাঘাঁটির অন্তত ১০ সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। এলাকাটিতে ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের একটি ক্যাম্পও রয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভারতীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বৃষ্টির ফলে খীরগঙ্গা নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে যায় এবং কাদামাটিসহ পানি ঢেউ হয়ে নিচে নেমে আসে।
রাস্তাঘাট ধসে পড়েছে, অনেক স্থানে বিশাল ফাটল তৈরি হয়েছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষের কারণে ধীরগতিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে গঙ্গোত্রী থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে কিছু জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল ধারালিতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতার কারণে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন এমন এক কর্মকর্তা বলেছেন, জমে থাকা কাদামাটি আর ধ্বংসাবশেষে পুরো এলাকা চাপা পড়ে গেছে। এখনও অনেক লোক আটকে আছেন, কিন্তু সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে ভ্রমণ না করতে জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে। কিছু অঞ্চলে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হিমালয়ের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত উত্তরাখণ্ড বরাবরই ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। ২০২১ সালে এ ধরনের দুর্যোগে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আর ২০১৩ সালের বড় বিপর্যয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। অনেকেই এখনও নিখোঁজ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল হিন্দু তীর্থস্থান কেদারনাথ।